Ratna Debnath: RG Kar কাণ্ডে CBI ও আদালতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তাঁর মন্তব্য ঘিরে ফের চর্চায় আরজি কর মামলা ও তদন্তের ভূমিকা।
RG কর-কাণ্ডের পরে কেটে গেছে প্রায় ২ বছর। কিন্তু এখনও বিচার পায়নি আরজি কর হাসপাতালের নির্যাতিতা নিহত চিকিৎসক। তাঁর মা রত্না দেবনাথ নিজের মেয়েকে বিচার পাইয়ে দিতেই রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন বলে একাধিকবার জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিধায়ক হয়ে এখনও পর্যন্ত মেয়ের বিচার পাইয়ে দিতে তিনি পারেননি বলে এবার রীতিমত হতাশা প্রকাশ করেছেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক। যদিও এবার রত্না দেবনাথ সিবিআই আর আদালতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন।
রত্না দেবনাথের প্রতিক্রিয়া
প্রায় চার মাস হতে চলল রাজ্যে পালা বদল হয়েছে। তৃণমূলকে হারিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। শাসক দলেরই বিধায়ক রত্না দেবনাথ আর আস্থা রাখতে পারছেন না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'জলের মত পরিষ্কার। বিচার ব্যবস্থা কোনও দিকেই এগোচ্ছে না। সবাই বলেছিল ওই সরকার থাকলে কিছু হবে না। পরিবর্তন হলে সবকিছু হবে। আমি কিছুতেই রাজি ছিলাম না। কোনও দিন রাজনীতির মঞ্চে পা দিতাম না আমরা। আমার মেয়ে পছন্দ করত না ওটা। ওর বাবার একটা ব্যবসা আছে।' তিনি আরও বলেছেন, সেই সময় তাঁকে বোঝানো হয়েছিল বাংলা নর্দমা হয়ে গিয়েছে। পড়াশুনার কোনও বালাই নেই। শিক্ষাস্বাস্থ্য সব হারিয়ে দিয়েছে। তাই সময়ে মেয়ের দোষীদের শাস্তি দিতেই তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন বলেও জানিয়েছেন।
সিবিআই তদন্ত
আর জি কর মামলায় তৎকালীন রাজ্য সরকারের তদন্তে ভরসা রাখতে পারেননি কেউ, পরিবারের দাবি মেনে শেষ পর্যন্ত তদন্তভার যায় CBI-এর হাতে। তবে CBI-এর তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছে অভয়ার পরিবার। এবার আদালতের ভূমিকা নিয়েও সরব হলেন রত্না। তাঁর অভিযোগ, বার বার একটাই যুক্তি দেওয়া হচ্ছে যে অভিযুক্তরা ডাক্তার বলে তাঁদের সহজে গ্রেফতার করা যাবে না, বিচারকও সেদিন একই কথা বলেছিলেন। রত্নার পাল্টা প্রশ্ন, যিনি মারা গিয়েছিলেন তিনিও তো ডাক্তার ছিলেন! যারা খুন করেছে, তারা ডাক্তার হওয়ার আগে অপরাধী- পেশার পরিচয় দিয়ে আড়াল করা চলবে না। এই ধরনের বিচারব্যবস্থা ও পরিষেবা বদলানো জরুরি বলে দাবি করেছেন তিনি।
তদন্ত চলছে
এদিকে আর জি কর কাণ্ডের তদন্ত এখনও চলছে। এই মামলাতেই আজ বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে। অভয়ার মা-বাবার অভিযোগ, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যেই মেয়ের দেহ তড়িঘড়ি দাহ করে দেওয়া হয়েছিল, সেই মামলাতেই ধরা পড়লেন সোমনাথ। জানা গিয়েছে, ওড়িশা ও হায়দরাবাদ ঘুরে বেঙ্গালুরুতে গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি, বন্ধ রেখেছিলেন মোবাইল ফোনও। শেষরক্ষা হয়নি, বেঙ্গালুরু থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজই তাঁকে তোলা হবে বেঙ্গালুরু সিটি সিভিল কোর্টে, সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে আসা হবে কলকাতায়। এর আগে এই মামলাতেই ওড়িশার বালেশ্বর থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন নির্মল ঘোষ।


