এক পাশ্বশিক্ষকের মৃত্যুতে তোলপাড় চলছে। আর এবার তাঁদের আন্দোলন নিয়ে সংসদেও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্য়ায় ও বাবুল সুপ্রিয়। গেরুশিবিরের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারের পাল্টা অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তাল লোকসভা। গোটা বিষয়টি নিয়ে স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ রাজ্যের শাসকদল।

বেতন কাঠামো চালু-সহ ৪ দফা দাবিতে সল্টলেকে অনশনে বসেছেন রাজ্যের কয়েক হাজার পার্শ্বশিক্ষক। অনশন চলছে ১১ নভেম্বর থেকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর ব্লকের দক্ষিণ বোড়াই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পার্শ্বশিক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন রেবতী রাউত।  গত ১৮ নভেম্বরে পশ্চিম মেদিনীপুরেই তিনি মারা গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।  আন্দোলনকারীদের দাবি, ১১ নভেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে সল্টলেকে এসে অনশন যোগ দিয়েছিলেন রেবতী। কিন্তু অনশন করতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি, ভর্তি করতে হয় হাসপাতালে। কিছু সুস্থ হলে ওই পার্শ্বশিক্ষককে বাড়িতে নিয়ে চলে যান পরিজনেরা। অনশনজনিত অসুস্থতার  কারণেই মারা গিয়েছে রেবতী রাউত। অন্তত তেমনই দাবি পাশ্বশিক্ষক ঐক্যমঞ্চের। এমনকী, সংগঠনের তরফে ওই পার্শ্বশিক্ষককে আন্দোলনের প্রথম শহীদ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে আবার মৃতার পরিবারের দাবি, অনশন করতে গিয়ে নয়, পথ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন রেবতী রাউত।

সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে শুক্রবার লোকসভার পার্শ্বশিক্ষকদের আন্দোলনের বিষয়টি তোলেন এ রাজ্যের দুই সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ও বাবুল সুপ্রিয়। হুগলির সাংসদের প্রশ্ন, 'এ রাজ্যে পার্শ্বশিক্ষকরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী কেন  সেদিকে নজর দিচ্ছেন না?' আর আসানসোলের বিজেপি সাংসদ ও মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ের অভিযোগ, 'অনশন করতে গিয়ে মারা গিয়েছেন একজন পার্শ্বশিক্ষক। চার-পাঁচ আন্দোলনকারী অসুস্থ হয়ে ভর্তি হাসপাতালে।'  এদিকে লোকসভা দাঁড়িয়ে বিজেপি সাংসদদের পাল্টা আক্রমণ করেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাল্টা দাবি, 'এ রাজ্যে আন্দোলন করতে গিয়ে কোনও পার্শ্বশিক্ষকের মৃত্য়ু হয়নি। বরং সম্প্রতি তাঁদের বেতন হাজার টাকা বেড়েছে।  মিথ্যা প্রচার করছে বিজেপি,অন্যায্যভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীকে।' পার্শ্বশিক্ষকদের আন্দোলন নিয়েই শুধু নয়, সংসদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অসংসদীয়ভাবে আক্রমণের অভিযোগে স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল সাংসদরা।