পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূল কর্মীদের ছাল চামড়া গুটিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। একই সঙ্গে পুলিশকেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সৌমিত্রবাবু। বিজেপি সাংসদের দাবি, পুলিশ তৃণমূলকে সঙ্গ দিলে পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়ে দেবে সাধারণ মানুষ। 

সোমবার বাঁকুড়া পুরসভার কুড়ি নম্বর ওয়ার্ডে সিএএ ও এনআরসি-র সমর্থনে সভা করেন সৌমিত্র খাঁ। তাঁর সঙ্গে সেখানে ছিলেন বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকারও। নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রচার করতে এলেও তারই ফাঁকে আগামী পুরসভা নির্বাচনেও বিজেপি-কে সমর্থনের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান দুই সাংসদ। পুরসভা নির্বাচন নিয়ে প্রচার করতে গিয়েই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন সৌমিত্রবাবু। বিজেপি সাংসদ বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনের মতো পুরসভা নির্বাচনেও বাধা দিতে এলে তৃণমূল নেতা কর্মীদের চামড়া গুটিয়ে দেওয়া হবে। পুলিশ যদি তৃণমূলকে সাহায্য করে তাহলে মানুষ তাদের গাড়িও জ্বালিয়ে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ। 

সৌমিত্র খাঁ বলেন, 'বাঁকুড়ার তিনটি পুরসভাই আমরা দখল করব। আর তৃণমূল নেতাদের পরিষ্কার বলে দিতে চাই, পঞ্চায়েতের মতো হলে তৃণমূল নেতাদের ছাল চামড়া উঠিয়ে দেব। সেই ক্ষমতা আমরা  রাখি।'  পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, 'পুলিশকে কীভাবে আটকাতে হয় ২০১৯- এর লোকসভা নির্বাচনে মানুষ তা দেখিয়ে দিয়েছে। পুলিশ তৃণমূলের হয়ে কাজ করলে পুলিশের গাড়ি জ্বলবে। মানুষ পুলিশের গাড়ি জ্বালালে তো কারও কিছু বলার থাকে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ট্রেন পোড়াতে বলেছিল, আর পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছিল। এরা তো রাজ্য সরকারের পুলিশ নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাসত্ব করে এরা বেঁচে আছে।'

সৌমিত্র খাঁয়ের এই মন্তব্যের অবশ্য পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূলও। বাঁকুড়া পুরসভার পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত বলেন, 'পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় সৌমিত্র খাঁ তো তৃণমূলেই ছিলেন। মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার দায়িত্বও ছিল ওনার উপরে। তখন কী হয়েছে সেটা উনিই ভাল বলতে পারবেন। আর তৃণমূলের চামড়া তুলে নিতে এলে তৃণমূলকে কিছু করতে হবে না। যা জবাব দেওয়ার তা সাধারণ মানুষই দেবে।'