তৃণমূলের পর বিজেপি। এবার একেবারে প্রকাশ্যে রাজ্যের গেরুয়া শিবিরের গোষ্ঠী কোন্দল। 'দলবিরোধী মন্তব্য'এর জন্য কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানো হল রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুকে। এছাড়াও শো-কজ করা হয়েছে নাগরাকাটার মণ্ডল সভাপতি সন্তোষ হাতি এবং আলিপুরদুয়ারের জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মাকেও। বলা হয়েছে, গত ১৮ ডিসেম্বর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সায়ন্তন কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন, যা দলীয় স্বার্থের পরিপন্থী। এর জন্য কেন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সাতদিনের মধ্যে জানাতে হবে তাঁকে।

প্রসঙ্গত, প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেই আসানসোলের তৃণমূল নেতা জিতেন তিওয়ারি-ও বিজেপিতে যোগ দিতে ইচ্ছুক ছিলেন। দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলে পুর প্রশাসক ও দল থেকে ইস্তফাও দিয়েছিলেন পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক। শেষ পর্যন্ত বিজেপি তাঁকে পাত্তা দেযনি, এবং দুঃখ প্রকাশ করে দলেই থেকে যান জিতেন্দ্র। কিন্তু তার আগেই জিতেন্দ্রর সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন সায়ন্তন বসু। এমনকী তিনি যাতে বিজেপি-তে যেগ দিতে না পারেন, তার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলার হুমকিও দিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক। তবে শুধু তিনিই নন, জিতেন্দ্রর বিরোধিতা করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, বিজেপির রাজ্য মহিলা মোর্চা সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-সহ আরও অনেকেই। তাঁদের কারোর বিরুদ্ধে অবশ্য কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বিজেপি।

এতেই 'ঝি-কে মেরে বউকে শেখানো'র গন্ধ পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যত তৃণমূল উজার করে নেতারা বিজেপি-তে এসে ভিড়ছেন, ততই বিজেপির অন্দরে বেড়েছে গোষ্ঠী কোন্দল। যেমনটা একসময় দেখা গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসেও। এমনিতে, রাজ্য বিজেপি-তে দিলীপ ঘোষ বনাম মুকুল রায় গোষ্ঠীর বিরোধ এখন আর কোনও গোপন কথা নয়। আবার বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু পরিচিত দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ট হিসাবেই। তাই বাবুল, অগ্নিমিত্রাদের ছেড়ে বেছে বেছে তাঁকে শোকজ নোটিশ পাঠানো আসলে আখেরে দিলীপ ঘোষকেই প্রচ্ছন্ন বার্তা পাঠানো বলে মনে করা হচ্ছে। অনেকে আবার বলছেন, শুভেন্দুর যোগদানে মুকুল গোষ্ঠীর শক্তি যে বেড়েছে, এই শোকজ নোটিশই তার প্রমাণ।

এর পাশাপাশি, অমিত শাহর সভায় বিজেপি-তে যোগ দেওযা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ দশরথ তিরকে, আলিপুরদুয়ার পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান আশিস দত্ত এবং জেলা তৃণমূল সহ সভাপতি বাপ্পা মজুমদার সম্পর্কে কটু মন্তব্য করেছিলেন বিজেপি-র আলিপুরদুয়ারের জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা। বলেছিলেন, জেলায় দলের কোনও পদ খালি নেই। তাই দলবদলু নেতারা যেন পদ পাওয়ার আশা না করেন। অন্যদিকে, নাগরাকাটার তৃণমূল বিধায়ক শুকরা মুণ্ডা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই, ওই এলেকায় আদি বিজেপি বনাম নব্য বিজেপি সংঘাত বেঁধেছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। নাগরাকাটার মণ্ডল সভাপতি সন্তোষ হাতি ও তাঁর অনুগামীরা দলবিরোধী স্লোগানও দিয়েছেন বলে অভিযোগ।