কিল-চড়-ঘুষি বাদ গেল না কিছুই। শেষপর্যন্ত তাঁর দিকে নানচাকু নিয়ে তেড়ে গেল দুষ্কৃতীরা! আসানসোলের রাস্তায় আক্রান্ত এক প্রবীণ বিজেপি সমর্থক। ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু এতটাই হিংসাত্বক যে, ভিডিওটি দেখানো সম্ভব নয়। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু এখনও গ্রেফতার হয়নি কেউ। দোষীদের শাস্তি না দিলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি স্থানীয় নেতৃত্ব।

আগে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী ছিলেন। দলবদলে এখন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন আসানসোলের সালানপুরের বাসিন্দা  ষাটোর্ধ্ব নন্দকিশোর চৌহান। জানা গিয়েছে, তাঁর বাড়ির সামনে রূপনারায়ণপুর ও নিয়ামতপুরের সংযোগকারী রাস্তাটি সারাইয়ের কাজ করছে পূর্ত দপ্তর। কিন্তু রাস্তা সারাই করতে গিয়ে মাটির নিচে জলের পাইপের কিছুটা অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে অভিযোগ। নন্দকিশোরের দাবি, শুক্রবার জলের পাইপটি মেরামত করে দেওয়ার অনুরোধ করায় তাঁকে হুমকি দেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা। কিন্তু সেসব আর গায়ে মাখেননি তিনি। চুপচাপ বাড়ি ফিরে আসেন। তখনকার মতো ঝামেলাও মিটে যায়।

আরও পড়ুন: নেপথ্যে পরকীয়া, বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় মা-মেয়েকে জীবন্ত পুড়িয়ে খুন

শনিবার বিকেলে নন্দকিশোর চৌহানের বাড়িতে হামলা হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার ভিডিও-ই ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিও-তে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, রাস্তায় নিয়ে গিয়ে ওই বিজেপি সমর্থককে বেধড়ক মারধর করছে বেশ কয়েকজন। কিল-চড়-ঘুষি মারাই শুধু নয়, তাঁর দিকে রীতিমতো নানচাকু নিয়ে তেড়ে যেতেও দেখা গিয়েছে হামলাকারীদের।  ওই প্রৌঢ়কে বাঁচাতে গেলে ক্যানসার আক্রান্ত স্ত্রী, বউমা,এমনকী চার বছরের নাতনিকেও রেয়াত করা হয়নি বলে অভিযোগ।  কিন্তু পুলিশের অভিযোগ জানানোর সাহস পাননি আক্রান্তের পরিবারের লোকেরা। উল্টে ঘটনার পর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান নন্দকিশোর চৌহানের ছেলে অনুপ। তিনি আবার এলাকার ৮৪ নম্বর বুথের সভাপতি। 

আরও পড়ুন: ফুটবলে এবার 'সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ ', অভিনব উদ্য়োগ পুলিশের

তাহলে মারধরের ভিডিওটি ভাইরাল হল কী করে? জানা গিয়েছে, ওই বিজেপি কর্মীর উপর যখন হামলা হয়, তখন গোটা ঘটনাটি মোবাইলে ভিডিও করে রাখেন এক প্রতিবেশী। রবিবার তাঁর কাছ ভিডিওটি পান এলাকার বিজেপি নেতারা। এরপর সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। বাড়িতে গিয়ে নন্দকিশোরের সঙ্গে দেখাও করেন বিজেপি-র যুব মোর্চার সভাপতি অরিজিৎ রায়।  তৃণমূলের ব্লক সভাপতির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তিনি। অভিযুক্তের পাল্টা দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। বাবা-ছেলে মদ্যপ অবস্থায় গালিগালাজ করছিলেন। স্থানীয়রাই কেউ হয়তো তাঁদের উপর হামলা চালিয়েছেন।