কালীপুজোর দিন সকালে হুগলির আরামবাগে খুন হয়ে গেলেন এক বিজেপি কর্মী। আক্রান্ত আরও বেশ কয়েকজন। দলের কর্মীদের উপর হামলার ও খুনের ঘটনায় তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে গেরুয়াশিবিরের স্থানীয় নেতৃত্ব। ঘটনার প্রতিবাদে পথ অবরোধ করেন বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা।  অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার সকালে।  প্রাতঃভ্রমণ সেরে আরামবাগ শহরের কালিপুর কলেজের সামনে একটি দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন কয়েকজন। তাঁরা সকলেই এলাকায় বিজেপি কর্মী হিসেবেই পরিচিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দোকানে বসে যখন চা খাচ্ছিলেন বিজেপি কর্মীরা, তখন তাঁদের উপর বাঁশ-লাঠি-রড নিয়ে চড়াও হয় কয়েকজন দুষ্কৃতী।  আক্রান্তদের রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়।  গুরুতর আহত হন তিনজন। তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে। হাসপাতালে মারা যান একজন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে হামলা ও খুনের অভিযোগ তুলে আরামবাগের কালিনগর সেতুর কাছে পথ অবরোধ শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। এসডিপিও-র নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।  কোনওমতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন পুলিশকর্মীরা।

এদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা ও বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, পাড়াগত বিবাদে জেরেই হামলার মুখে পড়েছেন বিজেপি কর্মীরা। এরসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা যুক্ত নয়। বরং বিজেপি কর্মীদের তৃণমূল কর্মীদের হামলা চালিয়েছেন, বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর চলেছে।  তবে এলাকার এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ। হুগলির পুলিশ সুপার(গ্রামীণ) তথাগত বসু জানিয়েছেন, বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় জানাতে চাননি তিনি।