Canning Tmc News: তৃণমূল নেতার প্রাসাদপম বাড়ি থেকে মাছের ভেড়ি! কী নেই সেখানে। এবার আরও এক শেখ শাহাজাবের হদিশ মিলল দক্ষিণ ২৪ পরগণার গোসাবায়। কী অভিযোগ উঠেছে ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে? বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।

Canning Tmc News: দিন যত গড়াচ্ছে ততই পেঁয়াজের খোসার মতো বেরিয়ে আসছে তৃণমূল নেতাদের একের পর এক দুর্নীতির ছবি। এবার আরও এক তৃণমূল নেতার কু-কীর্তির পর্দাফাঁস। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ক্যানিং থানার গোসাবা এলাকায়। সূত্রের খবর, গোসাবার তৃণমূল নেতা সুবিদ আলি ঢালি ওরফে ঝোড়ো ঢালির সম্পত্তির পরিমাণ আকাশ ছোঁয়া। হিসেব বহির্ভূত সম্পত্তির মালিক এই ব্লক তৃণমূলের কার্যকারী সভাপতি তথা পাঠানখালি অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি সুবিদ আলি ঢালি, দাবি স্থানীয়দের। এলাকার সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করে, কাটমানি থেকে শুরু করে জোর করে জমি দখল করে এই বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে?

সূত্রের খবর, প্রায় ২০ বিঘা জমির উপর বিশাল দুটি বাড়ি রয়েছে ঝোড়োর। বাড়ির সুরক্ষার জন্য চারিদিকে রয়েছে ৮০০ মিটার লম্বা এবং ১৫ ফুট উঁচু বিশাল প্রাচীর। দুটি বাড়িই বিলাসবহুল বলে দাবি এলাকাবাসীদের। এছাড়াও ৪০ বিঘার একটি খামারবাড়ি রয়েছে, রয়েছে বিশাল বিশাল একাধিক জলাশয়, মাছের ভেড়ি। এসবের পাশাপাশি গোসাবার একাধিক জায়গা সহ কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা এলাকাতেও একাধিক বাড়ি রয়েছে ঝোড়োর, দাবি স্থানীয়দের।

গ্রামবাসীদের দাবি, বর্তমানের এই দাপুটে তৃণমূল নেতা একসময় অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন। গ্রামে ছাগল ও মুরগি বিক্রি করাই ছিল তাঁর পেশা। কিন্তু রাজ্যে তৃণমূল জমানা শুরু হতেই তাঁর ভাগ্যের চাকা এক লাফে ঘুরে যায়। পাঠানখালি তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি থেকে শুরু করে পরবর্তীতে তিনি গোসাবা ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি হন। তাঁর রাজনৈতিক দাপট এতটাই বৃদ্ধি পায় যে, গোসাবার তৃণমূলের নেতাদের ভাগ্য নির্ধারণ করতেন তিনি নিজেই। কে এলাকার বিধায়ক হবেন, তাও ঠিক হতো তাঁর অঙ্গুলিহেলনে।

এলাকাবাসির অভিযোগ, গরিব চাষী ও আদিবাসীদের শোষণ করেছেন তিনি। ক্ষমতার অপব্যবহার করেই তিনি এলাকার দরিদ্র আদিবাসী মানুষদের ঋণের ফাঁদে ফেলতেন বলে অভিযোগ। বিঘা প্রতি মাত্র ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা ধার দিয়ে স্ট্যাম্প পেপারে সই করিয়ে নিতেন তিনি। পরবর্তীতে সেই ঋণের দায়ে এবং ক্ষমতার জোরে গরিব মানুষের জমি নিজের নামে লিখিয়ে নিতেন বলেও অভিযোগ।

পুলিশের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন মেটার পর থেকেই পাঠানখালি এলাকায় চরম রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ উঠেছে এই ঝোড়োর বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই সে বিষয়ে গোসাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিজেপি কর্মীদের নৃশংস ভাবে মারধর, তাঁদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা, লুটপাট এবং লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিজের বিলাসবহুল প্রাসাদ ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন এই তৃণমূল নেতা। গোসাবা থানার পুলিশ তাঁর সমস্ত সম্ভাব্য ডেরায় তল্লাশি চালাচ্ছে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।