পূর্ববর্তী সরকারের মেয়াদে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সাল থেকে রাজ্যে ইস্যু করা সমস্ত জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificates) পুনরায় যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর শুক্রবার সমস্ত জেলাশাসককে একটি চিঠি পাঠিয়েছে এবং তাতে পুনরায় যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে।
পূর্ববর্তী সরকারের মেয়াদে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সাল থেকে রাজ্যে ইস্যু করা সমস্ত জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificates) পুনরায় যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শুক্রবার এক সিনিয়র আধিকারিক এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান যে, রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর শুক্রবার সমস্ত জেলাশাসককে একটি চিঠি পাঠিয়েছে এবং তাতে পুনরায় যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের শাসনকালে জাতিগত শংসাপত্র ইস্যু করার ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ বারবার সামনে এসেছিল।

জাল শংসাপত্র যাচাইয়ের নির্দেশাবলি
রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন ও অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানিয়েছেন যে, ওই সময়কালে অসংখ্য জাল শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছিল। টুডু উল্লেখ করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে বিপুল সংখ্যক জাল এসসি (SC), এসটি (ST) এবং ওবিসি (OBC) শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছিল এবং বহু মানুষ এই শংসাপত্রগুলি ব্যবহার করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। মন্ত্রী এর আগেও জানিয়েছিলেন যে, যে সব আধিকারিক এই ধরনের শংসাপত্র ইস্যু করার বিষয়টি তদারকি করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে যেসব ব্যক্তির নাম SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে তাদের জাতিগত শংসাপত্র বর্তমান আইন এবং বিধি অনুযায়ী বাতিল করতে হবে।
২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ জাতিগত শংসাপত্র বা কাস্ট সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪৭ লশ্র ৯০ হাজার সার্টিফিকেট তৈরি হয়েছে দুয়ারে সরকারের মাধ্যমে। এছাড়াও এই সময়ের মধ্যে সেকেন্ড জেনারেশন কাস্ট সার্টিফিকেট বা জাতিগত শংসাপত্র ইস্যু করা হয়। তবে ২০১১ সালের পর থেকে ইস্যু করা বহু কাস্ট সার্টিফিকেটের সত্যতা এবং বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ সালের পর থেকে ইস্যু হওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করে দেয়। কারণ হিসেবে আদালত জানায়, ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস কমিশনের ১১৯৩ সালের আইন অনুযায়ী শংসাপত্র দেওয়া হয়নি। রাজ্যকে ফের সমীক্ষা করে সার্টিফিকেট ইস্যু করার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। কিন্ত নতুন তালিকা তৈরির পরে তাতেও গলদ ছিল বলে অভিযোগ। পূর্বতন সরকারের সেই তালিকার উপরেও ২০২৫ সালের ১৫ জুন স্থগিতাদেশ দিয়েছিল আদালত।
মন্ত্রিসভা গঠনের পর নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের শীর্ষ আমলা ও সচিবদের নিয়ে একটি বৈঠক করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে কয়েকটি বিষয় তিনি উল্লেখও করেছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম এসসি (SC), এসটি (ST) ও ওবিসি (OBC) সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষেত্রে যে দুর্নীতির খবর আছে, এই বিষয়টি নিয়ে কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৈঠকে সচিবদের বলেছিলেন, "SIR -এর সময় যারা বেআইনিভাবে কাস্ট সার্টিফিকেট বা জাতি শংসাপত্র ইস্যু করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেব। জাতিগত শংসাপত্র এসসি, এসটি ও ওবিসি সার্টিফিকেট নিয়ে যাঁরা জালিয়াতি করেছেন, যে সব অফিসাররা এর মধ্যে জড়িত, তাঁদের সবার ফাইল আমার কাছে আছে।"