চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ গেল আরামবাগের একই পরিবারের তিনজনের। পুজোর আনন্দ মুহূর্তে বদলে গেল শোকে। কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা, কী জানা গেল পরিবার ও প্রশাসন সূত্রে, দেখুন বিস্তারিত।
উৎসবের আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল বিষাদ আর শোকে! কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় আরামবাগের মলয়পুর এক নম্বর অঞ্চলের বালিয়া এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে একই পরিবারের আট সদস্যের মধ্যে তিনজনের মৃত্যুর খবর ঘিরে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। এই ঘটনায় আরও এক সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন বলে পরিবারের সূত্রে জানা গিয়েছে।
৮ জনের মধ্যে মৃত ৩
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের আটজন ঠাকুর দেখতে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। পরে কলকাতার চোরবাগান পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ের মধ্যে ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় প্রাণ হারান পরিবারের তিন সদস্য। গুরুতর আহত হন আরও একজন।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন আরামবাগের বালিয়া উত্তরপাড়ার বাসিন্দা আনুমানিক ২৩ বছর বয়সি পিয়ালী প্রামাণিক। এছাড়াও মৃত্যু হয়েছে আনুমানিক ৩৭ বছর বয়সি টগর বেজ এবং ১২ বছর বয়সি সন্দ্বীপ বেজের। তাঁদের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি থানার পাসন্ডা এলাকায় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আনুমানিক ১৯ বছর বয়সি আগমনী বেজ।
পরিবারের দাবি, গতকাল সকালে ফোনে শেষবার কথা হয়েছিল। তারপর থেকেই স্বাভাবিক যোগাযোগের বদলে নেমে আসে উৎকণ্ঠা। দুর্ঘটনার খবর সামনে আসতেই স্বজনদের মধ্যে শুরু হয় শোক ও উদ্বেগের আবহ। প্রিয়জনদের হারানোর বেদনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মলয়পুরের বালিয়া এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশীদের মধ্যেও নেমে এসেছে গভীর বিষাদ। যে পরিবার উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে কলকাতায় গিয়েছিল, সেই পরিবারেই একসঙ্গে তিনটি মৃত্যুর খবরে বাকরুদ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা? ভিড় নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা ছিল? আর কীভাবেই বা এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হল—এখন সেই প্রশ্নই ঘুরছে এলাকাবাসীর মনে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।
চোরবাগানের এই দুর্ঘটনা ফের সামনে আনল উৎসবের মরশুমে জননিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব। তবে এই মুহূর্তে সব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রয়েছে স্বজন হারানোর অসহনীয় যন্ত্রণা।








