প্রেমিকের মোবাইল সুইচড অফ। সেই অভিমানেই আত্মঘাতী হল দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ থানার মারাইকুড়া গ্রামে। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রী মাড়াইকুড়ার একটি স্কুলেরই পড়ুয়া ছিল। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকেই তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতার দাদুর দাবি, সোমবার রাতে নিজের প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়া হয় ওই ছাত্রীর। তার জেরেই ওই ছাত্রী আত্মঘাতী হয়েছে বলে অনুমান তার পরিবারের। 

দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধী। পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালান মা। মৃতার দাদু জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই স্বাভাবিকই ছিল ওই ছাত্রী। মা কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পরে প্রতিদিনের মতো খাবার রান্না করে সে। তার পর দাদুকে খেতে দিয়ে অসুস্থ বাবাকেও খাওয়ায়। স্কুলের পোশাক পরার জন্য এর পর ঘরে ঢুকেই আত্মঘাতী হয় ওই ছাত্রী। বাজার থেকে ফিরে ছাত্রীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার করেন ছাত্রীর দাদু। তখনই প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ওই ছাত্রীর দেহ উদ্ধার করে। রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গেলে ছাত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। 

ঘটনার তদন্তে নেমে ওই ছাত্রীর মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। মোবাইল ফোন থেকে ওই ছাত্রীর প্রেমিকের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তখন দেখা যায়,  ওই কিশোরের মোবাইল সুইচড অফ রয়েছে। তার থেকেই পুলিশের ধারণা, প্রেমিকের মোবাইল বন্ধ থাকার কারণেই অভিমান করে আত্মঘাতী হয়েছে ওই ছাত্রী। ওই কিশোরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে পুলিশ। ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।