উত্তম দত্ত, হুগলি:  রাজ্য পুলিশের ১২ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কর্মরত ছিলেন তিনি। পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন প্রথম মহিলা কম্যান্ডিং অফিসার দেবশ্রী চট্টোপাধ্যায়। মারা গিয়েছেন তাঁর গাড়িচালক ও নিরাপত্তারক্ষীও। শুক্রবার লকডাউনের দিন সাতসকালে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল হুগলির দাদপুরের কাছে, দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে।

আরও পড়ুন: সাত সকালে ভূমিকম্পে উত্তরবঙ্গ, কম্পন অনুভূত হয় বিস্তীর্ণ এলাকায়

পুলিশ সূত্রে খবর, একসময়ে কলকাতার নর্থ পোর্ট থানার ওসি ছিলেন দেবশ্রী। ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে রাজ্য পুলিশের প্রথম মহিলা কম্যান্ডিং অফিসার হন তিনি। দায়িত্ব পান পুলিশের ১২ নম্বর ব্যাটেলিয়নের। এই মহিলা পুলিশকর্তার পোস্টিং ছিল শিলিগুড়ির ডাবগ্রামে। কর্মস্থল থেকে সড়কপথে বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার বেহালার বাড়িতে ফিরছিলেন দেবশ্রী। 

ঘড়িতে তখন ভোর সাড়ে ছ'টা। হুগলির দাদপুরের কাছে দুর্গাপুরে এক্সপ্রেসওয়ের কলকাতামুখী লেনে দাঁড়িয়েছিল বালিবোঝাই একটি লরি। যে গাড়ি করে শিলিগুড়ি থেকে ফিরছিলেন দেবশ্রী , পিছন থেকে সেই গাড়িটি সজোরে ধাক্কা মারে লরিটিকে। এতটাই জোরে ধাক্কা লাগে যে, পুলিশকর্তার গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মহিলা পুলিশকর্তা  ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষী। গাড়িচালক কিন্তু তখনও বেঁচে ছিলেন। বিকট শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন আশেপাশের লোকজন। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় দাদপুর থানার। পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়াররা দেবশ্রী-সহ তিনজনকে নিয়ে যান চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে মারা যান গাড়ির চালকও। 

আরও পড়ুন: ভোররাতে তমলুক আদালতের এজলাসে আগুন, এলাকায় আতঙ্ক

এদিকে খবর পেয়ে হাসপাতালে যান হুগলির (গ্রামীণ) পুলিশ সুপার তথাগত বসু ও কলকাতার পুলিশের আধিকারিকরা। আসেন আইজি দেবাশিষ বড়ালও। রাজ্য পুলিশের কম্যান্ডির অফিসার দেবশ্রী চট্টোপাধ্যায়ের দেহ শনাক্ত করেন তাঁ স্বামী ও ছেলে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, রাতভর গাড়ি চালিয়ে ভোরের দিকে সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছিলেন চালক। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা যাবেন বলে জানা গিয়েছে।