বাড়িতে মায়ের সঙ্গে টিভি দেখেছিলেন এক তরুণী।  হঠাৎ মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোন নিয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে যান তিনি। আর ফেরেননি, বাড়ির কাছে বাঁশ ঝাঁড়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই কলেজ ছাত্রী। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার নবদ্বীপে।

মৃতার নাম মৌমিতা নন্দী।  বাড়ি, নবদ্বীপ শহরের দুই নম্বর গৌরাঙ্গ কলোনিতে। নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন বছর উনিশের ওই তরুণী।  পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, রবিবার রাতে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে নেমন্তন্ন ছিল তাঁদের। নেমন্তন্ন খেতে গিয়েছিলেন মৌমিতাও। বাড়ি ফিরে রাতে মায়ের সঙ্গে বসে টিভি দেখছিলেন তিনি।  মোবাইলে একটি ফোন পেয়ে বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন ওই কলেজছাত্রী।  এদিকে মেয়েকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে দেন মৌমিতার বাবা।  তিনিই প্রথম বাড়ির কাছে একটি বাঁশ ঝাঁড়ে মৌমিতাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।  নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে ওই তরুণীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

কিন্তু কেন আত্মহত্যা করল দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মৌমিতা নন্দী?  মৌমিতার সঙ্গে এলাকার এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনাটি জানতেন মৃতার মামী জয়ন্তী সরকার।  তাঁর দাবি, যে যুবকের সঙ্গে মৌমিতার প্রেম ছিল, সম্প্রতি সেই যুবক পুলিশের চাকরি পেয়েছেন। আর চাকরি পাওয়ার পরই বদলে গিয়েছেন তিনি।  বদল এতটাই  যে, ইদানিং তিন বছরের প্রেমিকা মৌমিতাকেও এড়িয়ে চলছিলেন ওই যুবক। প্রেমিকের আচরণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ওই কলেজছাত্রী।  সেকারণেই আত্মহত্যা করেছেন তিনি।  তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে।