কোলে সন্তান এসেছে, তবে সে মানসিক প্রতিবন্ধী। ভরদুপুরে বছরে তিনেকের শিশুসন্তানকে গভীর জঙ্গলে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল তার বাবা-মা। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। রীতিমতো ধাওয়া করে ওই দম্পতিকে হাতেনাতে ধরে ফেললেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জঙ্গল থেকে একরত্তি শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে অভিযুক্ত দম্পতিকেও। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঝাড়গ্রামে।

ওড়িশার সীমানা লাগোয়া এ রাজ্যের জঙ্গমহলের জেলা ঝাড়গ্রাম। বুধবার দুপুরে মানিকপাড়ার বামুনমারা গ্রাম লাগোয়া জঙ্গলকে এক দম্পতিকে বেরোতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্ত অসময়ে স্বামী-স্ত্রী জঙ্গলে কী করছে? সন্দেহ হওয়ায় পিছু নেন তাঁরা। ধাওয়া করে একসময়ে তাদের ধরে ফেলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি,  জঙ্গলের ভিতরে কিছুটা দূর যেতেই বছর তিনেকের এক শিশুকে দেখতে পান তাঁরা। যে দম্পতিকে জঙ্গলে থেকে বেরোতে দেখা গিয়েছিল, ওই শিশুটি তাদেরই। তাকে জঙ্গলে ফেলে সন্তর্পণে পালানো চেষ্টা করছিল স্বামী ও স্ত্রী।  ঘটনাটি জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর দেওয়া হয় মানিকপাড়া ফাঁড়িতে। ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দম্পতিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

জানা গিয়েছে, ওই দম্পতির বাড়ি ঝাড়গ্রামে লাগোয়া ওড়িয়ার ময়ূরভঞ্জ জেলায়। তাদের বছর তিনেকের শিশুকন্যা জন্ম থেকে মানসিক প্রতিবন্ধী।  মানুষ করা তো দূর, প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে রীতিমতো বিরক্তই ছিল শিশুটির মা। ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে সন্তানকে ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে রেখে যাওয়ার পরিকল্পনা করে স্বামী ও স্ত্রী। উদ্ধার করার পর শিশুটিকে এখন চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। কিন্ত শুধু মানসিক প্রতিবন্ধকতা নাকি অন্যকোনও কারণে শিশুটিকে জঙ্গলে ফেলে দিতে চেয়েছিল ভিন রাজ্যের ওই দম্পতি? খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।