রক্তের বন্ধনেই নিজেদের প্রথম বিবাহবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখলেন খড়গপুর শহরের মুখার্জি দম্পতি। সোমবার অন্যরকম বিবাহ বার্ষিকী উদযাপনকে ঘিরে কৌতূহলের অন্ত ছিল না শহরের মালঞ্চ এলাকার মুখার্জি ভবনকে ঘিরে। মানুষ যেখানে এই দিনটিকে কোথাও বেড়াতে যাওয়া, শপিং মলে কাটানো, সিনে কমপ্লেক্সে কাটিয়ে থাকে, সেখানে নব দম্পতি তাঁদের পরিবার ও প্রতিবেশীরা রক্ত দিলেন বিছানায় শুয়ে।
 
সৌম্যেন্দ্রনাথ মুখার্জি জানালেন, 'আমার ইচ্ছা ছিল বৌভাতের দিনই রক্তদান শিবির করব। কিন্তু বিভিন্ন ব্যস্ততা ও অনভিজ্ঞতার কারণে করা হয়ে ওঠেনি। সেদিনই ঠিক করেছিলাম প্রথম বিবাহ বার্ষিকীর দিনেই স্ত্রী সহ গোটা পরিবার রক্তদান করব। সেটাই আজ করতে পেরে ভালো লাগছে। তবে জীবনের অন্যতম সেরা পাওয়াটা সোমবার পেলেন সৌম্যেন্দ্রনাথের স্ত্রী সায়ন্তনী। হাতে সুঁচ ফোঁটাতে প্রচণ্ড ভয় পেতেন তিনি । সোমবার স্বামীর আহ্বানে জীবনের প্রথম রক্তদান করে ভয় কেটে গিয়েছে তাঁর। সায়ন্তনী জানালেন, এটা আমার কাছে জীবনের সেরা পাওয়া। আগে সুঁচ ফোটাবে জানলেই ছিটকে পালাতাম কিন্তু আজ সেই ভয়কে জয় করেছি আমি। আর ভয় পাব না কোনও দিন।'  

সৌমেন্দ্রনাথের  বাবা খড়গপুর ভলেনটিয়ারি ব্লাড ডোনার্স অর্গানাইজেসনের সদস্য। তাঁরও ইচ্ছা ছিল এমনই একটি অন্যরকম অনুষ্ঠানের। ছেলে আর পুত্রবধূকে নিয়ে বিবাহ বার্ষিকীতে প্রতিবেশীদের আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি তাঁদেরও উদ্বুদ্ধ করলেন রক্তদানে। ফলে দিনের শেষে ৩জন মহিলা সহ মোট ১৯জন রক্তদান করলেন এদিন। অন্যরকম এই অনুষ্ঠানকে স্বাগত জানাতে খড়্গপুরের মালঞ্চর  বেশ কিছু স্থানীয় বাসিন্দারা এদিন সৌমেন্দ্র ও সায়ন্তনীকে আশীর্বাদ করেন। সব শেষে কব্জি ডুবিয়ে ভুরিভোজে মধুরেণ সমপয়েৎ।