কৌশিক সেন, রায়গঞ্জ:  কোয়ারেন্টাইন সেন্টার নয়, সেফ হোমের 'অব্যবস্থা'র প্রতিবাদে এবার রাস্তা নামলেন করোনা আক্রান্তেরা। জেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ে চত্বরে রাস্তা অবরোধ করে চলল বিক্ষোভ। ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে উত্তর দিনাজপুরের কর্ণজোড়ায়।

আরও পড়ুন : লকডাউনে নয়া কর্মসংস্থান, শিলিগুড়িতে কাজের সুযোগ পাবেন করোনাজয়ীরা

সাধারণ মানুষের কথা ছেড়েই দিন, করোনা সংক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সরকারি আধিকারিক, পুলিশকর্তা, এমনকী জনপ্রতিনিধিরাও। যতদিন যাচ্ছে, পরিস্থিতি ততই ঘোরালো হয়ে উঠছে। ব্যতিক্রম নয় উত্তর দিনাজপুর জেলায়। জেলায় এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্য়া আটশো। তবে চিকিৎসায় সাফল্যের হারও যথেষ্ট ভালো। এখনও পর্যন্ত সেরে উঠেছেন পাঁচশো বারোজন। কিন্তু ঘটনা হল, সরকারি হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা সীমিত। ফলে সকলকেই যে হাসপাতালে ভর্তি হবেন, সে উপায় নেই। তাহলে? যাঁদের শারীরিক অবস্থা ততটা গুরুতর নয় কিংবা সামান্য উপসর্গ দেখা দিয়েছে, তাঁদের হোম আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। প্রয়োজন রোগীকে সরকারি ভবন বা সেফ হোমে রাখার ব্যবস্থা করেছে সরকার।

আরও পড়ুন: করোনায় আক্রান্তের মৃত্যুর পরদিনেও দেহ বাড়িতে, পরিবারে আক্রান্ত আরও ৬, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

জানা দিয়েছে, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ লাগোয়া কর্ণজোড়ায় প্রশাসনিক ভবন চত্বরেই সেফ হোমে রয়েছেন ৫০ জন। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই চরম অবহেলার শিকার হচ্ছেন তাঁরা! আবাসিকদের অভিযোগ, সেফ হোমের খাবার খুবই নিম্নমানের, নেই পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থাও। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। শেষপর্যন্ত সোমবার যখন বিকেল চারটের সময়ে দুপুরের খাবার দেওয়া হয়, তখন ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙে করোনা আক্রান্তদের। সেফ হোমের সামনে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তবে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের নজরে পড়েনি। সেফ হোম পরিদর্শন আসছেন করোনা মোকাবিলায় উত্তরবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সুশান্ত রায়।