দিনভর গাড়ি চলাচলের বিরাম নেই। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ফাটল ধরল হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীর উপর সেতুতে। যেকোনও সময়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তেমনই আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সেতু তৈরি করতে সময় লেগেছিল বছর দুয়েক। দক্ষিণ ২৪ পরগণার নামখানায়  হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীর উপর অ্যাপ্রোচ রোড-সহ সাড়ে তিন কিমি লম্বা সেতু তৈরিতে খরচ হয়েছে ২২৬ কোটি টাকা।  স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০১৯ সালের মার্চে নবান্ন থেকে সেতুটির উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিতে কেটে সেতুতে যান চলাচলের সূচনা করেছিলেন পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরাও। নামখানা ও নারায়ণপুরের মধ্যে সংযোগকারী তো  বটেই, দক্ষিণ ২৪ পরগণার বকখালিতে যাঁরা বেড়াতে আসেন, এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করেন তাঁরাও। ফলে হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীর উপর সেতুতে যানবাহন চাপ যথেষ্টই। 

আরও পড়ুন: একটানা ৭ দিনে বাতিল কয়েকশো ট্রেন, চরম ভোগান্তির মুখে শিয়ালদহ মেইন লাইনের যাত্রীরা

জানা গিয়েছে, নামখানার দিকে নদী বাঁধ বরাবর সেতুটির দুটি থাম রয়েছে। মাস দুয়েক আগে একটি থামের দু'জায়গায় ফাটল নজরে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি স্থানীয় পঞ্চায়েত, এমনকী পঞ্চায়েত সমিতিকেও জানানো হয়। অন্তত তেমনই দাবি এলাকার বাসিন্দাদের। কিন্তু মেরামত করা তো দূর অস্ত,  হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীর উপর সেতুতে যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সেতুটি যদি দ্রুত মেরামত না করা, সেক্ষেত্রে যেকোনও সময়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীর উপর সেতুর থামে যে ফাটল ধরেছে, সেকথা স্বীকার করে নিয়েছেন নামখানা পঞ্চায়েত সহ-সভাপতি ধীরেন্দ্রনাথ পাত্র। তাঁর বক্তব্য, নামখানা বাজারের সমস্ত জল ওই থামের পাশ দিয়েই নদীতে চলে যায়। ফাটল তো ধরেইছে, থামের নিচে গভীর গর্তও হয়ে গিয়েছে। খুব তাড়াতাড়িই বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।  বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা-ও।