- Home
- West Bengal
- DA: ৩০ নভেম্বর বকেয়া ডিএ মেটাতে ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, শুভেন্দুর ঘোষণায় বঞ্চনার অভিযোগ এই কর্মীদের
DA: ৩০ নভেম্বর বকেয়া ডিএ মেটাতে ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, শুভেন্দুর ঘোষণায় বঞ্চনার অভিযোগ এই কর্মীদের
DA Arrears: ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া ডিএ মেটাতে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। কিন্তু গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বকেয়া নিয়ে ক্ষোভ, কী বলছে কর্মচারী সংগঠনগুলি, জানুন।

৩০ নভেম্বরের মধ্যে মিটবে বকেয়া ডিএ, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাজ্যের সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়া হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষিতে এই কাজে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। ঘোষণা শুনে স্বস্তি পেয়েছেন অনেকেই, কারণ বহুদিন ধরে এই বকেয়ার অপেক্ষায় ছিলেন সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তরা।

ঘোষণার পরেই কর্মচারী মহলের একাংশে ক্ষোভ
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মচারী মহলের একাংশে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। সংগঠনগুলির দাবি, এই সিদ্ধান্তে কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি সম্পূর্ণ পূরণ হচ্ছে না। ঘোষিত অর্থের হিসাব নিয়েও যথেষ্ট অসঙ্গতি আছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের নিয়ে
সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষক, শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া নিয়েই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক। সংগঠনগুলির দাবি, সরকারি কোষাগার থেকে বেতন পাওয়া কর্মীদের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশই এই বিভাগের মধ্যে পড়েন। অর্থাৎ ঘোষণা তাঁদের ক্ষেত্রে স্পষ্ট না হলে কর্মীদের বড় অংশই বঞ্চিত হবেন, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইন্দু মলহোত্র কমিটির প্রসঙ্গ
গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বকেয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বারবার ডিসেম্বরে ইন্দু মলহোত্র কমিটির বৈঠকের কথা বলেছেন। কর্মচারী প্রতিনিধিদের যুক্তি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এমন কোনও শর্ত নেই যে কমিটির বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মীদের বকেয়া মেটানো যাবে না। ফলে কমিটির দোহাই দিয়ে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নই তুলছেন তাঁরা।
সংগঠনের হিসাব: লাগবে ৪২ থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা
ঘোষিত প্রায় চার হাজার কোটি টাকার সঙ্গে কর্মচারী সংগঠনগুলির নিজস্ব হিসাবের বিস্তর ফারাক। তাঁদের দাবি, গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বকেয়া মেটাতেই সরকারের অন্তত ৪২ থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এই অঙ্কের পার্থক্যই ক্ষোভের অন্যতম বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
১৩ মার্চের নির্দেশিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
কর্মচারীদের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের শেষ দিকে ১৩ মার্চ অর্থ দফতর থেকে জারি করা নির্দেশিকায় পঞ্চায়েত, পুরসভা, বোর্ড-কর্পোরেশন এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদেরও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ দেওয়ার কথা স্পষ্ট বলা ছিল। শুধু স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) পরে তৈরি হওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ, নির্বাচন মিটে যাওয়ার পরেও সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি।
কিস্তিতে মেটানোর রূপরেখা চাইছে সংগঠন
সংগঠনের নেতাদের মতে, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে কিস্তিতে বকেয়া মেটানোর রূপরেখা ঘোষণা করা যেত। উদাহরণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, ২০২৭ সালের শুরুতে প্রথম কিস্তি এবং ২০২৮ সালে পরের কিস্তি দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করা সম্ভব ছিল। পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মচারী ইউনিয়নগুলির সঙ্গে আলোচনা করে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতির কথাও ভাবছেন তাঁরা।
কো-অর্ডিনেশন কমিটির দাবি: নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করুক সরকার
সিপিএম-সমর্থিত কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরীর বক্তব্য, ডিএ সকলেরই প্রাপ্য এবং এটা নতুন কোনও বিষয় নয়, আগেই মেটানো উচিত ছিল। তাঁর ব্যাখ্যায়, সুপ্রিম কোর্ট ইন্দু মলহোত্র কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছে কিস্তির সংখ্যা ও রাজ্যের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে বকেয়া মেটানোর পদ্ধতি ঠিক করতে, কে ডিএ পাবেন তা ঠিক করতে নয়। আগের নির্দেশিকা না মানতে চাইলে সরকার নতুন নির্দেশিকা জারি করে তা স্পষ্ট করুক, এটাই তাঁর দাবি।
সরকার-ঘনিষ্ঠ সংগঠনও মানছে ক্ষোভের কথা
বিজেপি-মনোভাবাপন্ন রাজ্য সরকারি কর্মচারী পরিষদের সভাপতি দেবাশিস শীল জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া মেটানোর কথা বলেছেন। একই সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদেরও বকেয়া পাওয়ার অধিকার তিনি স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, একাংশ পেলেন আর অন্য অংশ পেলেন না, এতে ক্ষোভ স্বাভাবিক। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, কমিটির সুপারিশ প্রকাশের পর শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও গ্রান্ট-ইন-এইডের পঞ্চায়েত কর্মীদের বকেয়াও মেটানো হবে, প্রয়োজনে কিস্তিতে।
"প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে রাজনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে"
বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে "অত্যন্ত হতাশাজনক" বলেছেন। তাঁর প্রশ্ন, নবান্ন নিজেই ১৩ মার্চের নির্দেশিকায় সকলকে বকেয়া দেওয়ার কথা বলে থাকলে এখন বারবার মলহোত্র কমিটির প্রসঙ্গ কেন? সরকার কি কমিটির সঙ্গে কোনও সমঝোতায় এসেছে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে তার রাজনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে, এমন হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.

