বঙ্গ বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকের পরে ভাষণ দিতে গিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার সময় তিনি বলেন, ভবানীপুরের মতো নিজেরই ঘরের মাঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হয়েছেন।

বঙ্গ বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকের পরে ভাষণ দিতে গিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার সময় তিনি বলেন, ভবানীপুরের মতো নিজেরই ঘরের মাঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হয়েছেন। তিনি বলেন, "শুভেন্দুদা আপনার ঘরের মাঠে এসেই আপনাকে হারিয়ে দিয়েছেন।" দক্ষিণ কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকায় শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের বিষয়টিকেই তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। বিজেপির এই বিপুল জয়কে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির একটি 'টার্নিং পয়েন্ট' বা মোড় হিসেবে বর্ণনা করে শাহ বলেন, "দিদির ঘরের মাঠ থেকে তাঁর অস্তিত্বই মুছে গেছে।"

বিজেপির এই জয়কে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে আখ্যায়িত করে শাহ বলেন, "দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে বাংলা গণতন্ত্রের অবক্ষয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির শিকার হয়েছে। আজ বাংলা এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এখন সেই প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করার দায়িত্ব দলের কাঁধেই ন্যস্ত। জয়ের ব্যাপকতা তুলে ধরে শাহ উল্লেখ করেন যে, রাজ্যের ৩০টি জেলার মধ্যে ২০টিতেই বিজেপি এক নম্বর দল হিসেবে উঠে এসেছে। এছাড়া পূর্ব মেদিনীপুর, আসানসোল, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ার মতো অঞ্চলগুলোতেও দল বিপুল জয় পেয়েছে। তিনি বলেন, "এমন একটিও জেলা নেই যেখানে আমাদের কোনও বিধায়ক নেই।" এই ফলাফলের পেছনে তিনি রেকর্ড সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের বিষয়টিকেও কৃতিত্ব দেন। শাহ বলেন, "ভোটদানের হার ৯৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। দুটি ধাপের ভোটগ্রহণই কোনও প্রাণহানি ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।" তিনি নির্বাচন কমিশন, নিরাপত্তা বাহিনী এবং রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের অভিনন্দন জানান—যাদের প্রচেষ্টায় তাঁর ভাষায় একটি 'আদর্শ নির্বাচন' অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিরোধী শিবিরের দিকে তোপ দেগে শাহ মেরুকরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, "এটি মেরুকরণের কোনও বিষয় নয়। এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। সারা দেশজুড়ে প্রতিটি বুথে বুথে যে কোনও ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে বিজেপি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। নির্বাচনে বারবার কংগ্রেসের পরাজয়ের ঘটনা এখন গভীর আত্মবিশ্লেষণের দাবি রাখে। রাজনীতির ময়দানে যারা নিজেদের ভুলত্রুটি নিয়ে আত্মবিশ্লেষণ করতে নারাজ, তারা কখনই প্রকৃত অর্থে জয়ের স্বাদ পেতে পারে না।"

শুভেন্দু অধিকারী যখন দায়িত্ব গ্রহণের অপেক্ষায়, তখন অমিত শাহ এই মুহূর্তটিকে রাজ্যের রাজনীতির জন্য একটি নতুন সূচনা বা 'রিসেট' হিসেবেই তুলে ধরেন। বলেন, “এই বিজয় নরেন্দ্র মোদীর সেই বক্তব্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে পূর্ব ও পশ্চিম ভারতকে অবশ্যই একযোগে এগিয়ে যেতে হবে।" সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে এবং নির্বাচন-কেন্দ্রিক সহিংসতা নির্মূলে কাজ করার আহ্বান জানান।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হওয়ায় শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি এই নির্বাচনী রায়কে একটি “ঐতিহাসিক জনরায়” হিসেবে অভিহিত করেন এবং অধিকারীর নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। শাহ বলেন, “আমি তাঁকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানাই। আমি আশা করি, এই ঐতিহাসিক জনরায় বাংলার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা পূরণের মাধ্যম হয়ে উঠবে।" শুভেন্দুর সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, “আমি শুভেন্দু অধিকারীকে দীর্ঘকাল ধরে চিনি। তিনি একজন লড়াকু নেতা। আমি তাঁর রাজনৈতিক উত্থান এবং তৃণমূল স্তরের মানুষের সঙ্গে তাঁর গভীর সংযোগ—উভয়ই প্রত্যক্ষ করেছি।”