বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ঠিক আগেই রাজ্যে আসছেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। আগামী সোমবার দুর্গাপুরে পৌঁছবেন তিনি। তিনদিনের সফরে পর পর পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতার চূড়ান্ত ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন জ্ঞানেশ। তাঁর সঙ্গে আর‌ও দুই সিনিয়র কমিশনার থাকবেন বলে সূত্রের খবর।

বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ঠিক আগেই রাজ্যে আসছেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। আগামী সোমবার দুর্গাপুরে পৌঁছবেন তিনি। তিনদিনের সফরে পর পর পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতার চূড়ান্ত ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন জ্ঞানেশ। তাঁর সঙ্গে আর‌ও দুই সিনিয়র কমিশনার থাকবেন বলে সূত্রের খবর। দিল্লি থেকে সরাসরি অন্ডাল বিমানবন্দরে নামবেন তাঁরা। সেখান থেকে সড়কপথেই জেলা সফর করে শেষে কলকাতায় আসবেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

জানা গিয়েছে, অন্ডাল বিমানবন্দরে নামার পরে সড়ক পথে পশ্চিম বর্ধমানে ঢুকবেন। সোমবার কেবল মাত্র থাকবেন পশ্চিম বর্ধমান জেলাতেই, মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমান ও হুগলি জেলায় যাবেন। রাতেই কলকাতা যেতে পারেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার। এরপর বুধবার সকালের জরুরি বৈঠক করবেন সিইও-র দফতরে। বুধবার রাতেই ফিরে যাবেন দিল্লি।

নজরে উত্তরবঙ্গও

দক্ষিণবঙ্গ ছাড়াও উত্তরবঙ্গের জন্যে‌ও আরও একটি দল আসছে। ১৩ এপ্রিল বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছে আলিপুরদুয়ারে যাবেন তাঁরা। সেদিন বিকেলেই জেলার ভোটার সচেতনতা কর্মসূচি নিয়ে বৈঠক করার কথা রয়েছে। পরেরদিন ১৪ এপ্রিল আলিপুরদুয়ার থেকে কোচবিহার যাবেন। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর জলপাইগুড়িতে যাবেন কমিশনের প্রতিনিধি দল। ১৫ এপ্রিল জলপাইগুড়ি ও কালিম্পং জেলায় কর্মসূচি রয়েছে। সকালে জলপাইগুড়িতে কর্মসূচি সেরে কালিম্পংয়ে গিয়ে মিডিয়া ও সচেতনতা কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। ১৬ এপ্রিল কালিম্পং থেকে দার্জিলিংয়ে গিয়ে ভোটার সচেতনতা কর্মসূচি নিয়ে বৈঠক করবেন তাঁরা। ১৭ এপ্রিল দার্জিলিং থেকেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে কথা তাঁদের।

পুলিশে রদবদল

এদিকে, ভোটের মুখে আবার কলকাতা পুলিশে একঝাঁক বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্য পুলিশেরও পদস্থ আধিকারিকদের একাংশকে সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কলকাতা পুলিশের তিন যুগ্ম কমিশনারকে বদল করা হয়েছে। বেশ কয়েক জন ডিসিপি-কেও বদল করে দিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি, বেশ কয়েকটি থানার আইসি, ওসি, অতিরিক্ত ওসি পদেও বদল করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন রূপেশ কুমার। এ বার ওই পদে আনা হল সোমা দাস মিত্রকে। তিনি এত দিন সিআইডি-র ডিআইজি ছিলেন। যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (সদর) পদে মিরাজ খালিদকে সরিয়ে দিয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুদীপ সরকারকে। তিনি ছিলেন ডিআইজি (পার্সোনাল)। আর যুগ্ম কমিশনার (ইন্টালিজেন্স) সৌম্য রায়কে সরিয়ে আনা হয়েছে দেবস্মিতা দাসকে। তিনি রাজ্য পুলিশের ডিআইজি (এসটিএফ) পদে ছিলেন এতদিন।

ডিসি স্তরেও একাধিক রদবদল করেছে কমিশন। সাউথ ডিভিশনের ডিসি হয়েছেন ভি.এস.আর অনন্তনাগ, নর্থ ডিভিশনে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রদীপ কুমার যাদব। সাউথ ইস্ট ডিভিশনে আনা হয়েছে সৈকত ঘোষকে, যিনি আগে ভাঙড় ডিভিশনের দায়িত্বে ছিলেন। ইস্ট ডিভিশনের ডিসি হয়েছেন প্রশান্ত চৌধুরী। পাশাপাশি ভাঙড় ডিভিশনের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মনীশ জোশীকে।

জেলা ও কমিশনারেট স্তরেও এই বদলির ছোঁয়া স্পষ্ট। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (সদর) পদে ইন্দ্রজিৎ সরকারকে নিয়োগ করা হয়েছে। আসানসোল-দুর্গাপুর থেকে রানা মুখোপাধ্যায়কে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (ইস্ট) পদে পাঠানো হয়েছে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) পদে দায়িত্ব পেয়েছেন চন্দন ঘোষ। বেলডাঙার নতুন এসডিপিও হয়েছেন আনন্দজিৎ হোড়।