রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা নিয়ে আগের তৃণমূল সরকারের কড়া সমালোচনা করলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে ২০০ জনের একটি নতুন NDRF বাহিনী তৈরির কথা ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি তারাতলা গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় তদন্ত ও শাস্তির আশ্বাসও দিয়েছেন।
শুক্রবার রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় পরিবর্তনের কথা জানালেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বর্তমান সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের কাজের তুলনা টেনেছেন তিনি।

বিপর্যয় মোকাবিলায় ব্যর্থ, আগের সরকারকে তোপ
রাজ্যের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ আগের সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "আগের সরকার ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকলেও একটাও NDRF টিম তৈরি করেনি।" তিনি আরও যোগ করেন যে, আগে রাজ্যকে বাইরের সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে হত। তাঁর কথায়, "প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড় আসত, কিন্তু ওড়িশা থেকে টিম আসার পরেই রাস্তা পরিষ্কার করা হত।"
বর্তমান সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ২০০ জনের একটি রিজার্ভ ফোর্স তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই বিশেষ টিমকে NDRF অপারেশনের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। সুন্দরবন, কলকাতা এবং বিভিন্ন উপকূলবর্তী এলাকার মতো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় তাদের মোতায়েন করা হবে। রাজ্যের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ঘোষ বলেন, "আমরা এই প্রস্তুতিগুলো নিচ্ছি।"
তারাতলা কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস
বিপর্যয় মোকাবিলার পাশাপাশি, মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ২৪ জুন তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনা নিয়েও মুখ খোলেন। এই ঘটনায় তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম-সহ অনেকেই রাজনৈতিক মন্তব্য করলেও, দিলীপ ঘোষ রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে দোষীদের শাস্তির ওপরই বেশি জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, "তৃণমূলের সঙ্গে ঝগড়া করার কোনও ইচ্ছে আমাদের নেই।"
ধসে পড়া গুদাম নিয়ে তিনি আইনি পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, "একটা বড় ঘটনা ঘটেছে; এর জন্য যেই দায়ী হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে তদন্ত হবে এবং সে শাস্তি পাবে।" এর আগে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, ওই বাড়ির অনুমোদিত প্ল্যানে প্রাক্তন মেয়র তথা তৃণমূলের সিনিয়র নেতা ফিরহাদ হাকিমের সই ছিল।
এই প্রসঙ্গে সংবাদ সংস্থা ANI-কে ফিরহাদ হাকিম বলেন, "মেয়র কোনও বিল্ডিং প্ল্যানে সই করেন না। মেয়র খুঁটিনাটি বিষয়েও যান না। কোনও মেয়রই এটা করেন না।"
তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, "মুখ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থান এবং বক্তব্যকে আমরা পুরোপুরি সমর্থন করি। কিন্তু শুধু চার-পাঁচজনকে গ্রেফতার করলে হবে না, উঁচু পদে থাকা সবাইকে গ্রেফতার না করলে চলবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন বিল্ডিং প্ল্যানে প্রাক্তন মেয়রের সই আছে। তাহলে তাকে গ্রেফতার করুন। শুধু রাজনৈতিক চাপের জন্য এমন নথি ব্যবহার করবেন না।"
প্রসঙ্গত, বুধবার কলকাতার তারাতলা এলাকায় ব্রেস ব্রিজের কাছে একটি নির্মীয়মাণ বহুতল গোডাউন শেড ভেঙে পড়ে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। একাধিক সংস্থার তরফে বড় আকারের উদ্ধারকাজ চালানো হয়।

