Dilip On Kalyan: তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগকে 'নাটক' বলে উড়িয়ে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, কল্যাণের উপর মানুষের অনেক রাগ রয়েছে, তাই তাঁর সাবধানে থাকা উচিত।
তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগকে সরাসরি 'নাটক' বলে উড়িয়ে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর মতে, কল্যাণকে কেউ আক্রমণ করেনি এবং এই ধরনের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার কোনও কারণ নেই। দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, কল্যাণের বিরুদ্ধে মানুষের মনে অনেক ক্ষোভ জমে আছে, তাই তাঁর নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে সাবধানে থাকা উচিত এবং বাড়ি থেকে বেশি বেরোনো ঠিক নয়।

কল্যাণকে নিশানা দিলীপের
দিলীপ বলেন, "সবাই দেখেছে, ওকে (কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়) কেউ ধাক্কা দেয়নি বা মারধরও করেনি। আমরা হাউসের ভিতরেও ওঁর নাটক দেখেছি, এখন বাইরেও দেখছি। এই ধরনের লোককে কেউ সিরিয়াসলি নেয় না।" তিনি আরও যোগ করেন, "উনি একজন সিনিয়র নেতা এবং আইনজীবী। ওঁর ব্যবহার নিয়ে বরাবরই অভিযোগ রয়েছে। ওঁর ওপর মানুষের অনেক রাগ। নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে ওঁর সতর্ক থাকা উচিত, বাইরে বেরোনো ঠিক নয়। এই ধরনের নাটক ওঁকে মানায় না।"
কল্যাণের ওপর হামলা
রবিবার হুগলির চণ্ডীতলা থানার কাছে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে ডেপুটেশন জমা দিতে যাওয়ার সময় তাঁর উপর হামলা হয় বলে তিনি দাবি করেন। এই ঘটনাকে 'খুনের চেষ্টা' বলে অভিযোগ করে তিনি বিজেপি কর্মীদের দিকে আঙুল তোলেন। এই ঘটনার ঠিক আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত পরিবারদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে ইট, পাথর এবং ডিম ছুঁড়ে তাঁর উপর হামলা করা হয় বলে জানা যায়। এই হামলায় তাঁর চোখে চোট লাগে।
বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দের তত্ত্ব
বিজেপি নেতা রাজেশ কুমার এই হামলার নিন্দা করে বলেন, এর পিছনে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকতে পারে। তিনি বলেন, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলায় তাঁর নিজের দলের লোকের নামই উঠে আসছে। ওরা নিজেদের দলের লোকের উপরেও অনেক অত্যাচার করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। বিজেপি এই ধরনের কোনও ঘটনা সমর্থন করে না।" কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহারও তো সবাই দেখেছে। ওঁর ওপর মানুষের যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে। সেই রাগই এখন বেরিয়ে আসছে।" তবে তিনি আশ্বাস দেন যে সরকার হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। "বিজেপি নিশ্চিত করবে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে। যদি কেউ এমন করে, তাকে গ্রেফতার করা হবে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে," বলেন তিনি। অভিষেকের উপর হামলার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং রবিবার তাদের বারুইপুর আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতদের নাম আকাশ গায়েন, কাজল দাস, দেবাশিস দত্ত, নির্মাল্য সেনগুপ্ত এবং তপন মাইতি। পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার বিজেপি জিতে সরকার গড়ার পরেই এই ধরনের একাধিক ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটছে। এই নির্বাচনে তৃণমূল ৮০টি আসনে আটকে যায়।


