শুক্রবার, সাংগঠনিক জেলার কার্যালয়ে বৈঠক করতে গিয়ে দলীয় কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়লেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে হুগলি জেলায় খারাপ ফলের জন্য, সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়কে দায়ি করে, একাংশের বিজেপরি কর্মীরা তার অপসারণের দাবি তোলেন। তাদের ক্ষোভ প্রশমণে বিক্ষুব্ধদের বাড়িতে ডেকে কথা বলার প্রস্তাব দিয়েছেন।

এদিন প্রথমে শ্রীরামপুরে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। তারপর চুঁচুড়ায় সাংগঠনিক জেলার কার্যালয়ে গিয়ে দলীয় কার্যকর্তাদের সঙ্গে সভা করেন তিনি। কারবালা মোড়ের দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালীনই, তার বাইরে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী জড়ো হন। তাঁরা হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের অপসারণের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

তাদের দাবি, গৌতম চট্টোপাধ্য়ায় অর্থের বিনিময়ে নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা, জেলা সভাপতিকে 'অসভ্য, বর্বর' বলে সম্বোধন করে দাবি করেছেন, দলের সংবিধানটাই তাঁর ঠিক করে জানা নেই। তাদের সরাসরি অভিযোগ ভোটের সময়, গৌতম চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর মনোনীত কমিটি এবং রাজ্য কমিটির দীপাঞ্জন গুহ রাতের অন্ধকারে তৃণমূলের পার্টি অফিসে যেতেন। অর্থের বিনিময়ে তৃণমূলের কথায় দল চালিয়ে হুগলীতে বিজেপিকে শূন্য করে দিয়েছেন তারা।    

এই বিষয়ে লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'নির্বাচনে হারের ফলে বিজেপি কর্মীরা হতাশ। এটা দলের আভ্যন্তরিন বিষয়। আবলোচনা করে মিটিয়ে নেওয়া হবে। তবে এর মধ্যেও কেউ কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ দেখছেন। কেউ কেউ দলের সঙ্গে বেইমানি করছেন। তাদের কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হবে। এঁদের মধ্য়ে অনেকেই আছেন, যারা দলের ভাল চায় না। বিজেপিতে ব্যক্তি বলে কিছু হয় না। আমাদের কাছে খবর আছে কেউ কেউ তৃণমূল কংগ্রেসের থকে ইন্ধন পেয়ে বিজেপি-কে ভাহার চেষ্টা করছেন।'  

তবে শুধু চুঁচুড়া সাংগঠনিক জেলাই নয়, বিধানসভা নির্বাচনে ২০০ আসন জয়ের স্বপ্ন দেখে ৭৭-এ আটকে যাওয়ার পর প্রায় প্রত্যেক জেলাতেই আদি-নব্য বিজেপির দ্বন্দ্ব সামনে আসছে। বিজেপির পুরোনো কর্মীদের নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, এমনটাই আদি বিজেপি কর্মীদের দাবি।