দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে আয়কর নোটিশ পাঠানো নিয়ে মঙ্গলবার কলকাতায় ধর্নায় বসেছিল তৃণমূলের শাখা সংগঠন বঙ্গ জননী। তৃণমূলের এই ধর্নাকে কটাক্ষ করে বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বললেন, 'হিসেব চাইলেই দিদিমণি এবং তাঁর ভাইয়েরা চিৎকার শুরু করেন।'

তৃণমূলনেত্রীর ঘোষণা মতোই এ দিন সকাল থেকে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে সকাল দশটা থেকে ধর্না কর্মসূচি নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের শাখা সংগঠন বঙ্গ জননী। পুজোর দখল নেওয়ার জন্য বিজেপি-র চক্রান্তেই আয়কর দফতর পুজো কমিটিগুলিকে হয়রান করছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূলের একাধিক নেতা, মন্ত্রীরা। ধর্নায় যোগ দেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজারা। চন্দ্রিমাদেবী প্রশ্ন তোলেন, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও কেন পুজো কমিটিগুলির থেকে আয়কর চাওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে মেয়র ফিরহাদ হাকিম অভিযোগ করেন, যেহেতু বাংলার পুজোকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, সেই কারণেই পুজোকে নিশানা করেছে কেন্দ্রের শাসক দল। কলকাতার বেশ কয়েকটি পুজো কমিটিও এই ধর্না কর্মসূচিতে যোগ দেয়। 

আরও পড়ুন- 'মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখেই ভরাডুবি', বিস্ফোরক তৃণমূল সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী

আরও পড়ুন- চিন্তন বৈঠকে দলের নেতার বিরুদ্ধেই বিক্ষোভ দুর্গাপুরে, অস্বস্তিতে বিজেপ নেতৃত্ব

তৃণমূলের এই ধর্নাকে কটাক্ষ করে নদিয়ার চাকদহে একটি দলীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, 'হিসেব চাইলেই দিদিমণি এবং তাঁর ভাইরা রেগে যান। কোনও পুজো কমিটি চিন্তিত নয়, সাধারণ মানুষেরও চিন্তা নেই। পুজো কমিটি থেকে তৃণমূলের যে নেতারা টাকা সরিয়েছেন, দু' নম্বরি করেছেন,  তাঁরাই ভয় পাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছেন পুজোর জন্য, হিসেব তো দিতেই হবে। আয়কর দফতর সবাইকে জেরা করবে। যাঁরা ভক্তিভরে পুজো করেন, তাঁরা ঠিক হিসেবও রাখেন।'

এর পরেই ফের একবার রাজ্য সরকারকে নিশানা করে দিলীপ বলেন, 'পুজো কে বন্ধ করেছে, বিজেপি বন্ধ করেছে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিসর্জন দিতে দেননি, আদালতে গিয়ে অনুমতি নিয়ে আসতে হয়েছে। এসব করে এখন লাভ নেই, হিসেব দিতেই হব। এই তালিকায় সব পুজোই আছে।