বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষের দাবি, ৪ মে ভোটের ফল বেরোলেই পশ্চিমবঙ্গে হিংসা বন্ধ হয়ে যাবে। তাঁর মতে, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য মানুষ তৈরি। মাওবাদী দমনে অমিত শাহের সাফল্য এবং রাজ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোই মানুষের ক্ষোভের কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

খড়গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ শুক্রবার বলেছেন, ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার পরেই পশ্চিমবঙ্গে হিংসা আর অত্যাচার বন্ধ হয়ে যাবে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোটাররা যে পরিবর্তন চাইছেন, সে বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী।

ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মাওবাদী হিংসা দমনের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন। তিনি বলেন, "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেন, তাই করেন। দেখুন, মাওবাদী আন্দোলন আর হিংসা শেষ হওয়ার জন্য মার্চ মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। সেটা শেষ হয়ে গেছে। এখন মাওবাদীদের কোনও চিহ্ন নেই। এবার ৪ মের পর বাংলাতেও হিংসা আর অত্যাচার বন্ধ হবে।"

'মানুষ পরিবর্তন চাইছেন'

রাজ্যের সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, মানুষ বীতশ্রদ্ধ এবং নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন চাইছেন। তিনি আরও বলেন, "সন্দেশখালি হোক, আর.জি. কর বা কসবা ল' কলেজ, একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। মানুষ परेशान হয়ে গেছেন এবং পরিবর্তন চাইছেন। সবার মনেই এই ক্ষোভ জমে আছে। এবার সুযোগ আসছে। এই নির্বাচনেই পরিবর্তন হবে। আমরা বাংলাকে বদলে দেব।"

বিজেপির 'সংকল্প পত্র'

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় বিজেপির 'সংকল্প পত্র' প্রকাশ করতে চলেছেন। এক্স-এ (আগের টুইটার) একটি পোস্টে শাহ বলেন, "তৃণমূলের শাসনে ক্লান্ত বাংলা এখন পরিবর্তন চায়। আজ আমি কলকাতায় বিজেপির সংকল্প পত্র প্রকাশ করব, যার লক্ষ্য বাংলাকে তৃণমূলের 'ত্রাসের রাজত্ব' থেকে মুক্ত করা।"

বিজেপির এই 'সংকল্প পত্রে' মূলত উন্নয়ন, জনকল্যাণ এবং নিরাপত্তার ওপর জোর দেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সমস্যার কথা মাথায় রেখেই এটি তৈরি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ইশতেহারে নারী উন্নয়ন, কৃষক এবং যুব সমাজের জন্য বিশেষ ঘোষণা থাকতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোট

পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ভোট হবে দুই দফায়—২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা হবে ৪ মে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আট দফায় ভোট হয়েছিল। সেই ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৩টি আসন পেয়ে বিপুল জয় পায়। বিজেপির সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর তারা ৭৭টি আসনে জিতেছিল। অন্যদিকে, কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট একটিও আসন পায়নি।