গ্রামের খালে ঢুকে খেলা দেখিয়ে ছিল সে। তাকে দেখতে ভিড়ও হয়েছিল। কিন্তু হইহল্লার মাঝে আসল কাজটাই হল না। প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা পূর্ব মেদিনীপুরের খালে ঘুরে বেরনোর পরে অবশেষে মৃত্যু হল ডলফিনের। যে ঘটনায় বন দফতরের গাফিলতির দিকেই আঙুল তুলছেন পশুপ্রেমীরা। 

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে। পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের নেতুরিয়ার খালে একটি ডলফিনকে দেখতে পান গ্রামবাসীরা। ডলফিন দেখতে কয়েক হাজার মানুষের ভিড় জমে যায়। কোথা থেকে ওই ডলফিন খালে এল, তা নিয়ে শুরু হয় জল্পনা। মাঝেমধ্যেই জলের মধ্যে ভেসে উঠে খেলাও দেখাতে থাকে ওই ডলফিনটি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং বন দফতর। শুরু হয় ডলফিনটিকে ধরে বা তাড়িয়ে বড় খালে নিয়ে যাওয়ার। 

কিন্তু শুক্রবার দিনভর চেষ্টা করেও ডলফিনটিকে ধরতে ব্যর্থ হয় বন দফতর। তখন ডলফিনটিকে তাড়িয়ে বড় খালের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ডলফিনটিকে ধরার ক্ষেত্রে বন দফতরের চেষ্টা যথেষ্টই দায়সারা ছিল বলে অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের। শেষ পর্যন্ত অন্ধকার নামায় ডলফিনটিকে খালে রেখেই ফিরে যান বন দফতরের কর্মীরা। 

আরও পড়ুন- বঙ্গের প্রত্যন্ত গ্রামে হাজির ডলফিন বাবাজী, খেলা দেখিয়ে জিতে নিল সকলের মন

আরও পড়ুন- খালের জলে ডলফিনের খেলা, প্রত্যন্ত গ্রামে উপচে পড়ল অত্যুৎসাহীদের ভিড়

শেষ পর্যন্ত এ দিন সকালে ওই খালের মধ্যেই মৃত ডলফিনটিকে ভাসতে দেখেন গ্রামের বাসিন্দা অনিল ঘোড়াই। অভিযোগ, মাছ ধরার জন্য ওই খালের জলের মধ্যে জাল পেতে রাখেন মৎস্যজীবীরা। সেই জালে জড়িয়েই ডলফিনটির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। ডলফিনের দেহ উদ্ধার করে ভূপতিনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ডলফিনটি খালে থাকলেও কেন খাল থেকে মাছ ধরার জাল সরানো হল না, সেই প্রশ্ন উঠছে। 

এ বিষয়ে বন দফতরের আধিকারিকদের কোনও প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বনকর্মীদের দাবি, ডলফিনটি অসুস্থ ছিল। অক্সিজেনের অভাবেই মৃত্যু হয়েছে সেটির।