বুদ্ধদেব পাত্র, পুরুলিয়া: কতইবা আর দাম! ছাগল বা বেড়ার তুলনায় অনেক কম। কিন্তু তাতে কি! বছরের এই একটা দিন হাঁস কেনার হিড়িক পড়ে যায় জেলায় সর্বত্রই। কেনা-বেচা হয় প্রায় কোটি টাকার! করোনা আতঙ্কের মাঝে এবারও মনসা পুজোয় চেনা ছবিটা বদলাল না পুরুলিয়ায়।

আরও পড়ুন: মুসলিম বাড়ির ভিত খুড়তেই উদ্ধার প্রাচীন শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি, শোরগোল মুর্শিদাবাদে

বকরি ঈদ ও স্বাধীনতা দিবসে যখন ছাড় দেওয়া হয়েছে, তখন মনসা পুজোর দিনই বা কেন লকডাউন জারি থাকবে? তা নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। সাধারণ মানুষ তো বটেই, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সংগঠনের তরফে ১৬  ও ১৭ তারিখ লকডাউন প্রত্যাহারের দাবি ওঠে।  মনসা পুজোকে আঞ্চলিক উৎসব ঘোষণা করে শেষপর্যন্ত ওই দু'দিন লকডাউন প্রত্যাহারও করে নেয় সরকার। ব্যস আর কী! বুধবার থেকে উৎসবের আমেজ পুরুলিয়া জেলায়। 

মনসা পুজোর সঙ্গে হাঁসের সম্পর্কটা কী? ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছিল, তা জানা যায়নি। তবে জঙ্গলমহলের জেলা পুরুলিয়ায় প্রতিবছর মহা ধূমধাম করে পালিত হয় মনসা পুজো। ছাগল কিংবা ভেড়া নয়, চিরাচরিত রীতি মেনে পুজোর দিনের হাঁস বলি দেওয়া হয়। পরের দিন হাঁসের মাংস দিয়ে চলে ভুরিভোজ। গরিব হোক কিংবা বড়লোক, মনসা পুজোর সময়ে হাঁস কেনেন না, পুরুলিয়ায় এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। জেলার ছোট-বড় বিভিন্ন বাজারে উপচে পড়ে ক্রেতাদের ভিড়, এক-একটি হাঁস বিক্রি হয় তিনশো, এমনকী চারশো টাকায়। বাড়তি রোজগারের আশায় বছরভর অপেক্ষায় থাকেন ব্য়বসায়ীরা। 

আরও পড়ুন: গায়ের রঙ কালো, গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ কুলতলিতে

লকডাউনে কড়াকড়ি নেই। করোনা আতঙ্কের মাঝে বুধবারও যথারীতি হাঁস কিনতে পুরুলিয়ার জেলার বিভিন্ন বাজারে ভিড় করেছিলেন বহু মানুষ। তবে করোনা আতঙ্কে কারণে এবার হাঁসের বিক্রি কিছু কম হয়েছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা।