দুর্গা পুজোর সময় অষ্টমীতে পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ভিড়। হোটেল থেকে রেস্তোরাঁ। জন সমাগমপূর্ণ ছিল মুর্শিদাবাদ। কিন্তু এবছর করোনার থাবায় উধাও হয়েছে চেনা ছবি। কার্যত ভিড় নেই পর্যটকদের। পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে নেই টাঙা ওয়ালাদের হাঁকডাক-দর কষাকষি। এবছর সবই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। পুজোর মরসুমে কার্যত দর্শক শূন্য নবাব নগরী।

আরও পড়ুন-মণ্ডপে গুটি কয়েক লোক, দর্শক শূন্য পুরুলিয়ার নিতুরিয়া দুর্গাপুজো

অন্যান্য বছর মুর্শিদাবাদের বহরমপুর, হাজারদুয়ারি, লালবাগ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে হোটেল গুলি থাকত কানায় কানায় পূর্ণ। রেস্তোরাঁগুলিতেও ভিড় থাকত চোখে পড়ার মতো। পর্যটকদের দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনায় সরগরম থাকত মুর্শিদাবাদ-বহরমপুর শহর। নবাব নগরী দর্শনে সকাল থেকেই বেরিয়ে পড়তেন মানুষ জন। হাজারদুয়ারি প্যালেসে মিউজিয়ামের মূল গেটের সামনে রাস্তার পাশে, নিউ প্যালেসের পাশের মাঠে পর্যটকদের অপেক্ষায় সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে থাকত টাঙা। ঘোড়ায় টানা গাড়িতে ভ্রমণের জন্য পর্যটকদের সঙ্গে টাঙাওয়ালেদের চলত দর কষাকাষি। কিন্তু করোনার থাবায় সেই চেনা ছবি উধাও গিয়েছে। তীব্র সমস্যার মধ্যে পড়েছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন।

আরও পড়ুন-প্রথম সারির করোনা যোদ্ধাদের সম্মান, করোনারূপী অসুরকে ইঞ্জেকশন দিয়ে বধ করছেন মা দুর্গা

পুজোর মরসুমে শহরের বেশিরভাগ হোটেল এখন ফাঁকা। পর্যটকদের দেখা মিলবে না জেনে রাস্তায় নামেনি অধিকাংশ টাঙা। হাতে গোনা কয়েকজন পর্যটক এলেও। আগের মতো ভিড়র জৌলুস হারিয়েছে মুর্শিদাবাদ। লালবাগ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ষাটটিরও বেশি হোটেল রয়েছে। এবছর কিন্তু তা সবই ফাঁকা রয়েছে। হোটেলে ভিড় নেই পর্যটকদের। 

আরও পড়ুন-পুজো প্যাণ্ডেল নয় যেন আস্ত কলকাতা মেডিকেল কলেজ, কোভিড ওয়ারিয়র্স থিমে ভাইরাল কালিয়াগড় পুর্বপাড়া সার্ব

হাজারদুয়ারি সূ্ত্রে খবর, করোনা আবহে জুলাই দ্বিতীয় সপ্তাহে পর্যটকদের সংখ্যা ছিল ৩০ থেকে ৪০ জন। পরবর্তী সময়ে সংখ্যাটা বেড়ে একশোর মতো হয়েছিল। এবার পুজোর মরসুমে তিনশোর মতো পর্যটক হাজারদুয়ারিতে ঘুরতে এসেছেন বলে খবর। এত পরিমাণ পর্যটক সংখ্যা কম হওয়ায় অনলাইন টিকিট ব্যবস্থাকেই দায়ী করেছেন পর্যটন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন।