কৌশিক সেন, রায়গঞ্জ- চিকিৎসক রূপে দেবী দুর্গা করোনারূপী অসুরকে ইঞ্জেকশন দিয়ে বধ করছেন। মা লক্ষীকে নার্সের রূপে ও দেবতা গণেশ পুলিশের ভূমিকায়। দেবী সরস্বতীকে দেখানো হয়েছে সাংবাদিকের ভূমিকায় আর দেব কার্তিক  সাফাইকর্মী রূপে অবতীর্ণ হয়েছেন। এই দেবী দশভূজা ও তাঁর পরিবার রয়েছেন ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালের আদলে তৈরি মন্ডপে।  করোনা মোকাবিলায় প্রথম সারির করোনা যোদ্ধাদের সন্মান জানাতে দর্শনার্থীদের  এমনই অভিনব পুজো উপহার দিল উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর শহরের আদর্শ সংঘ। যে পুজোর উদ্বোধন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। স্বল্প বাজেটে করোনা সচেতনতামূলক প্রচারের মাধ্যমে আদর্শ সংঘের দুর্গোৎসব নজর কেড়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলাবাসীর। পুজো মন্ডপজুড়ে  রয়েছে সবুজায়নের বার্তাও। 

আরও পড়ুন- পুজো প্যাণ্ডেল নয় যেন আস্ত কলকাতা মেডিকেল কলেজ, কোভিড ওয়ারিয়র্স থিমে ভাইরাল কালিয়াগড় পুর্বপাড়া

ইসলামপুর শহরের আদর্শ সংঘের পুজো দেখতে প্রথমেই জঙ্গল, গুহা ও বন্য পশুদের দেখতে দেখতে আপনাকে জঙ্গল ছাড়িয়ে প্রবেশ করতে হবে শহরে। বিগত সাত মাস ধরে করোনা সংক্রমণ ও মোকাবিলায় শহরের হাসপাতালের চিত্রটাই ফুটে উঠে। যেখানে নিরলস পরিশ্রম করে চিকিৎসক, নার্স, সাফাইকর্মীরা করোনা মোকাবিলায় পরিষেবা দিয়ে চলেছেন। ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালের আদলে পুজো মন্ডপ তৈরি করে সেখানে দেবী দুর্গাকে দেখানো হয়েছে একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি ইঞ্জেকশন দিয়ে করোনা রূপী অসুরকে বধ করছেন। রোগীর সেবায় নিয়োজিত দেবী লক্ষী সেবিকা রূপে বিরাজমান। সাফাইকর্মী হিসেবে যাঁরা নিরলস পরিষেবা দিয়ে চলেছেন দেব কার্তিক সেই সাফাইকর্মীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। 

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশজুড়ে চলা লকডাউনে পুলিশের ভূমিকা একজন প্রথম সারির করোনা যোদ্ধা হিসেবে। সিদ্ধিদাতা গণেশ সেই পুলিশের রূপে মন্ডপে বিরাজমান। করোনা মোকাবিলায় নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরন্তর খবর সংগ্রহ করে তা সাধারন মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন গনতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদ মাধ্যম। বিদ্যার দেবী সরস্বতী এই সাংবাদিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন ইসলামপুর শহরের আদর্শ সংঘের পুজো মন্ডপে। আদর্শ সংঘের পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা রাজ সাহানী জানিয়েছেন, তাঁরা প্রথমেই রাজ্যের মানবিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানাই। আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি তাদের পুজো উদ্বোধন করার জন্য৷ করোনা আবহে রাজ্য সরকারের পুজোর সমস্তরকম নিয়মবিধি মেনে চলেই এই পুজো পরিচালিত হচ্ছে। স্যানিটাইজিং টানেলের মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীদের মন্ডপে প্রবেশ করানোর পাশাপাশি থার্মাল গানের মাধ্যমে স্ক্রিনিং করানো হচ্ছে। প্রতিটি দর্শনার্থীদের জন্য মাস্কের ব্যবস্থা করা হয়েছে।