দুর্গাপুজোয় যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ করতে বড় পদক্ষেপ পূর্ব রেলের। পুজোর মরসুমে সম্ভাব্য অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে হাওড়া ডিভিশনের তরফে প্রতিদিন ১২টি অতিরিক্ত লোকাল ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। ১৭/১৮, ১৮/১৯, ১৯/২০ এবং ২০/২১ অক্টোবর ২০২৬-এর রাতে ব্যান্ডেল, তারকেশ্বর, চন্দনপুর, নৈহাটি এবং বর্ধমানের মেন ও কর্ড লাইনে এই ট্রেনগুলি চলবে।

দুর্গাপুজোয় যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ করতে বড় পদক্ষেপ পূর্ব রেলের। পুজোর মরসুমে সম্ভাব্য অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে হাওড়া ডিভিশনের তরফে প্রতিদিন ১২টি অতিরিক্ত লোকাল ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। ১৭/১৮, ১৮/১৯, ১৯/২০ এবং ২০/২১ অক্টোবর ২০২৬-এর রাতে ব্যান্ডেল, তারকেশ্বর, চন্দনপুর, নৈহাটি এবং বর্ধমানের মেন ও কর্ড লাইনে এই ট্রেনগুলি চলবে। যাত্রাপথে প্রতিটি স্টেশনেই ট্রেনগুলি থামবে বলে জানানো হয়েছে।

কোন রুটে চলবে পুজো স্পেশাল ট্রেন?

১. হাওড়া–বর্ধমান–হাওড়া (ব্যান্ডেল হয়ে)

হাওড়া থেকে রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে ভোর ৩টে ১০ মিনিটে বর্ধমান পৌঁছবে ট্রেনটি। অন্যদিকে, বর্ধমান থেকে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে রাত ১২টা ৫ মিনিটে হাওড়া পৌঁছবে।

২. হাওড়া–বর্ধমান–হাওড়া (ডানকুনি হয়ে)

হাওড়া থেকে রাত ১টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ভোর ৩টে ২০ মিনিটে বর্ধমান পৌঁছবে। বর্ধমান থেকে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে হাওড়া পৌঁছবে ট্রেনটি।

৩. হাওড়া–ব্যান্ডেল–হাওড়া

হাওড়া থেকে রাত ১টায় ছেড়ে রাত ২টো ৫ মিনিটে ব্যান্ডেল পৌঁছবে স্পেশাল ট্রেন। ব্যান্ডেল থেকে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে হাওড়া পৌঁছবে।

৪. শেওড়াফুলি–তারকেশ্বর–শেওড়াফুলি

শেওড়াফুলি থেকে রাত ১২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ১টা ২০ মিনিটে তারকেশ্বর পৌঁছবে ট্রেনটি। তারকেশ্বর থেকে রাত ১১টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ১২টা ৫ মিনিটে শেওড়াফুলি পৌঁছবে।

৫. ব্যান্ডেল–নৈহাটি–ব্যান্ডেল

ব্যান্ডেল থেকে রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ১টা ৮ মিনিটে নৈহাটি পৌঁছবে। নৈহাটি থেকে রাত ১টা ২০ মিনিটে ছেড়ে রাত ১টা ৪৫ মিনিটে ব্যান্ডেল পৌঁছবে।

৬. হাওড়া–চন্দনপুর–হাওড়া (ডানকুনি হয়ে)

হাওড়া থেকে রাত ১২টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ১টা ১৫ মিনিটে চন্দনপুর পৌঁছবে। চন্দনপুর থেকে রাত ১টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ২টো ৩০ মিনিটে হাওড়া পৌঁছবে।

বর্ধমানগামী মেমু লোকালে অতিরিক্ত স্টপেজ

১৭ থেকে ২১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ৬৩৫০১ নম্বর হাওড়া–বর্ধমান মেমু লোকাল রাত ১টা ৩০ মিনিটে হাওড়া থেকে ছাড়বে। ব্যান্ডেল পর্যন্ত সমস্ত স্টেশনের পাশাপাশি মাগরা, পাণ্ডুয়া, বৈঁচি ও মেমারি স্টেশনেও থামবে ট্রেনটি।

এছাড়াও, ৩৭৭৩১ নম্বর ব্যান্ডেল–মেমারি ইএমইউ লোকালকে বর্ধমান পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে। ব্যান্ডেল থেকে রাত ৮টা ৫৮ মিনিটে ছেড়ে ট্রেনটি রাত ১০টা ২৫ মিনিটে বর্ধমান পৌঁছবে। অন্যদিকে, ৩৭৭৩২ নম্বর মেমারি–হাওড়া লোকাল মেমারির পরিবর্তে বর্ধমান থেকে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে ছাড়বে এবং রাত ১২টা ১০ মিনিটে ব্যান্ডেল পৌঁছবে। এই ব্যবস্থা ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

পুজো ও ছুটির দিনে লোকাল ট্রেনের সময়সূচিতে বদল

হাওড়া ডিভিশনের সমস্ত ইএমইউ লোকাল ট্রেন ১৮, ১৯, ২০, ২১ ও ২৫ অক্টোবর এবং ৮ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বিশেষ সময়সূচি মেনে চলবে। ওই দিনগুলিতে বিকেল ৩টে পর্যন্ত, যাত্রা শুরুর সময় অনুযায়ী, রবিবার বা ছুটির দিনের সময়সূচি কার্যকর থাকবে। বিকেল ৩টের পর থেকে সপ্তাহের অন্যান্য দিনের স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলবে। তবে, এই উৎসবের দিনগুলিতে ৩৭২২০ নম্বর ব্যান্ডেল–হাওড়া ইএমইউ লোকালটি ব্যতিক্রম। ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে ব্যান্ডেল থেকে ছাড়া এই ট্রেনটি নিজস্ব রুট ও নির্ধারিত সময়সূচি মেনেই চলবে।

১৩৫৪টি স্পেশাল ট্রিপ

দুর্গাপুজো ও ছটপুজোয় যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে বড়সড় প্রস্তুতি নিচ্ছে পূর্ব রেল। ২০২৬ সালের পুজো উপলক্ষে মোট ১৩৫৪টি স্পেশাল ট্রিপ চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। উৎসবের ভিড় সামাল দিতে স্টেশনে যাত্রীদের অপেক্ষা করার জায়গাও বাড়ানো হচ্ছে। পূর্ব রেলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে হোল্ডিং এরিয়ার মোট আয়তন ছিল ১,০২,৭৭৭ বর্গফুট। ২০২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১,৩৯,৩৭৭ বর্গফুট। অর্থাৎ, জায়গা বেড়েছে ৩৫.৬১ শতাংশ।

পাশাপাশি, দুর্গাপুজোর সময়ে যাত্রী পরিষেবার জন্য বাণিজ্যিক কর্মীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালে যেখানে ৩৬৯ জন কর্মী মোতায়েন ছিলেন, সেখানে ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৪৭। বৃদ্ধি ২১.১৩ শতাংশ। টিকিট কাটার সুবিধার জন্যও বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্গাপুজো ২০২৬-এ অসংরক্ষিত টিকিটের কাউন্টার বাড়িয়ে ৬৪টি করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এই সংখ্যা ৪৭। মোবাইল টিকিটিং কাউন্টারের সংখ্যাও ২৪ থেকে বাড়িয়ে ৩৮ করা হয়েছে।

CCTV ও RPF মোতায়েন বাড়িয়ে নিরাপত্তায় জোর

যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি এবং বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে। বেশি ভিড় হয় এমন স্টেশনগুলিতে CCTV ক্যামেরার সংখ্যা ২০২৫ সালের ১,৪৩৯ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে হয়েছে ১,৮৮২। বৃদ্ধি ৩০.৭৮ শতাংশ। রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স বা RPF-এর কর্মীসংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। গত বছর যেখানে ১,৫১৪ জন RPF কর্মী মোতায়েন ছিলেন, সেখানে এ বছর সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১,৮২২। অর্থাৎ, RPF মোতায়েন বেড়েছে ২০.৩৪ শতাংশ।

নিরাপত্তার জন্য ডগ স্কোয়াড, লাগেজ স্ক্যানার, ফ্লাইং স্কোয়াড, মহিলা কর্মী-সহ নিরাপত্তা দল এবং সশস্ত্র কুইক রেসপন্স টিম বা QRT রাখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ও ডিভিশনাল কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। রাতের লোকাল ট্রেনেও RPF-এর দুই সদস্যের এসকর্ট টিম থাকবে, যার মধ্যে মহিলা কর্মীও থাকবেন।

২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা ও অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা

যাত্রীদের অসুস্থতা বা জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে মেডিক্যাল পরিষেবা সচল রাখা হবে। ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল রুম, মেডিক্যাল বুথ এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দল প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি, ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

স্টেশনে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে তিনটি শিফটে ২৪ ঘণ্টা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলবে। সন্ধ্যা ও রাতে ভিড় বাড়ার সময়ে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হবে। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিষ্কার, নিয়মিত আবর্জনা অপসারণ এবং পানীয় জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্লোরিনেশন পরীক্ষা করা হবে।

প্ল্যাটফর্ম বদল ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর

উৎসবের সময়ে যাত্রীদের নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করতে লিফট ও এসক্যালেটরে শিফট অনুযায়ী কর্মী মোতায়েন, ডিজেল জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা এবং জরুরি বহির্গমনের পথ খোলা রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর নিয়ম কার্যকর থাকবে। শেষ মুহূর্তে প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন না করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।