Malda Hostage incident: মালদার কালিয়াচকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাওয়ের ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
মালদার কালিয়াচকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাওয়ের ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠকে রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্তাদের কার্যত ধমক দিয়ে কড়া বার্তা দিলেন তিনি।
মালদায় বন্দির ঘটনা নিয়ে অসন্তোষ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের
সূত্রের খবর, মুখ্যসচিব, ডিজিপি, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, কলকাতা পুলিশের কমিশনার-সহ সব জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলে এই বৈঠক। সেখানে মালদার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন সিইসি। তিনি বলেন শুধুমাত্র বদলি কোনো শাস্তি নয়।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মালদার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জ্ঞানেশ কুমার। কয়েক ঘণ্টা ধরে অশান্তি চললেও কেন কোনও সিনিয়র আধিকারিক ঘটনাস্থলে ছিলেন না, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রাজ্যের ডিজিপিকেও তিনি প্রশ্ন করেন, আগে থেকে কেন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নিরাপত্তা নিয়েও কড়া অবস্থান নেয় কমিশন। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রকৃত প্রয়োজন ছাড়া কাউকে নিরাপত্তা দেওয়া যাবে না। যেসব নেতাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা রয়েছে, তাঁদের নিরাপত্তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। একইসঙ্গে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা বা নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করতে হবে।
নির্বাচন সামনে রেখে কমিশনের ছ’টি মূল লক্ষ্যও এদিন আবার মনে করিয়ে দেন জ্ঞানেশ কুমার—বুথ দখল রোধ, ভুয়ো ভোট আটকানো, অশান্তিমুক্ত নির্বাচন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ভোটগ্রহণ, ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ এবং ভোটে বাধা সৃষ্টি হলে তা কঠোরভাবে দমন।
মালদা-কাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের ও গ্রেফতারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বৈঠক থেকে। ইতিমধ্যেই ওই ঘটনায় আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলি কাদেরি-সহ মোট ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁদের আদালতে পেশ করা হয়েছে।
বৈঠকের শেষে সিইসি-র সাফ বার্তা—“মালদার মতো ঘটনা আর কোথাও বরদাস্ত করা হবে না। হলে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিচারক নিগ্রহের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মত সিবিআই কে দিয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট দিতে হবে সুপ্রিম কোর্টকে।


