বিএমডব্লিউ বাইক কেনার জন্য পণের টাকা না দেওয়ায় তাঁকে খুন করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মৃতার স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেফতার করে তদন্ত শুরু করেছে….
আট বছরের প্রেমের সম্পর্ক। তার পর বিয়ে। কিন্তু দাম্পত্যের দশ মাস কাটতে না কাটতেই অশান্তির অভিযোগ, আর তার মধ্যেই শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হল ২৫ বছরের এক বধূর ঝুলন্ত দেহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানা এলাকায়। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, পণের দাবিতে অত্যাচার করা হত তাঁকে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মৃতার স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মৃতার নাম স্নেহা চক্রবর্তী বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর সদর ব্লকের যমুনাবালি এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। স্নেহার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে তাঁর বাবার অভিযোগ, মেয়ের মৃত্যুর পিছনে রয়েছে পণের দাবিতে অত্যাচার।
স্নেহার বাপের বাড়িও মেদিনীপুর শহরে। মৃতার বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী পেশায় পুলিশকর্মী। তাঁর অভিযোগ, গত বছরের অক্টোবরে স্নেহার বিয়ে হয় রণদীপ জানার সঙ্গে। বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে মেয়ের উপর অত্যাচার শুরু হয় বলে দাবি তাঁর।
ধ্রুবের অভিযোগ, রণদীপের পরিবারের বালি ও লরির ব্যবসা রয়েছে। তা সত্ত্বেও পণের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছিল। সম্প্রতি বিএমডব্লিউ বাইক কেনার জন্য স্নেহার মাধ্যমে তাঁর কাছে টাকা চাওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এই দাবি মেনে নিতে না চাওয়ায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসা হয় এবং তার পর স্নেহার উপর অত্যাচার আরও বেড়ে যায় বলে দাবি মৃতার বাবার।
ধ্রুব চক্রবর্তীর দাবি, তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেননি। পণের টাকা না পেয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এই ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ওই পুলিশকর্মী। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও অভিযোগ জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্নেহার মৃত্যুর পাঁচ দিন আগে তাঁর স্বামী রণদীপ ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেই ছবিটিও বিএমডব্লিউ সংক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ স্নেহার স্বামী রণদীপ জানা এবং শ্বশুর রতন জানাকে গ্রেফতার করেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রণদীপকে চার দিনের পুলিশি হেফাজত এবং রতনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। মৃতার পরিবারের তরফে ওঠা পণজনিত অত্যাচার ও খুনের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
