কয়েক দিন আগে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। নিজের বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেলেন এক বৃদ্ধ। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ওই বৃদ্ধের ছেলেও। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে। থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের পরিবারের লোকেরা।

রায়গঞ্জ শহরের লোকনাথ মন্দিরের কাছেই বাড়ি রেবতীমোহন সিংহ-এর। ছেলে ও বউমা তখন বাজারে গিয়েছিলেন। বুধবার রাতে ঘরে একাই ছিলেন ওই বৃদ্ধ। আচমকাই বাড়িতে আগুন লেগে যায়। অন্তত তেমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।  খবর দেওয়া হয় দমকলে। স্থানীয় বাসিন্দারাও আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন এতটাই ভয়াবহ আকার নেয়, যে বাড়িতে থেকে আর বেরোতে পারেননি রেবতীমোহন।  দমকল কর্মীরা যখন আগুন নেভানোর কাজ করছেন, তখন ঘটনাস্থলে আসেন ওই বৃদ্ধের ছেলে। বাবাকে বাঁচানোর জন্য বাড়ির ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন তিনি, কিন্তু প্রবল ধোঁয়ায় জ্ঞান হারান। কোনওমতে ওই যুবককে উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে রেবতীমোহনকে বাঁচানো যায়নি। ঘর থেকে তাঁর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করেন দমকলকর্মীরা। 

আরও পড়ুন: স্বামীকে বেহুঁশ করে স্ত্রীকে গণধর্ষণ, গ্রেফতার ১

কিন্তু বাড়িতে আগুন লাগল কী করে? মৃতে বউমার বক্তব্য, 'প্রথমে দুর্ঘটনা বলেই মনে হয়েছিল।  কিন্তু রাতে বাড়ি ফিরে দেখি,  আলমারীর ভাঙা, গয়না বাক্সগুলি বিছানায় উপুড় করে রাখা হয়। সমস্ত গয়না উধাও।' ওই মহিলার দাবি, রাতে ফাঁকা বাড়িতে চুরি করতে এসেছিল দুষ্কৃতীরা। কিন্তু কোনওভাবে ঘটনাটি টের পেয়ে যান রেবতীমোহন। তাঁকে মেরে ফেলার জন্ই বাড়িতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।