জলপাইগুড়ির নাগরাকাটার ঘটনা কুড়ে ঘরে হামলা চালাল হাতি ঘরের মধ্যে থাকা চার বছরের শিশুকে বাঁচাল দাঁতাল  

ভোর বেলা আচমকা হানা দিল দাঁতাল। তার তাণ্ডবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভেঙে খান খান বাঁশ খড়ের ঘর। ভিতরে তখন চার বছরের মেয়েকে নিয়ে আতঙ্কে সিঁটিয়ে আছেন দম্পতি। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আশঙ্কাকে সত্যি করে একরত্তিকে মেয়েটিকে শুঁড়ে তুলে নিল দাঁতাল। এর পরে ওই শিশুটির বাবা-মা নিজের চোখে যা দেখলেন, তা এখনও তাঁরা বিশ্বাস করতে পারছেন না। ঘর বাড়ি ভাঙলেও শিশুটির কোনও ক্ষতি করেনি হাতিটি। বরং শুঁড়ে পেঁচিয়ে সঙ্গীতা নামে ওই শিশুটিকে বাড়ির উঠোনে শুইয়ে দেয় সে। 

এর পরেই অবশ্য ফের রুদ্রমূর্তি ধারণ করে দাঁতালটি। ফের ঘরে ভাঙচুর করে ঘরে থাকা চাল, ডাল, সবজি দিয়ে ভোজ সেরে জঙ্গলে ফিরে যায় হাতিটি। ডুয়ার্সের নাগরাকাটার বাসিন্দারা দাঁতালদের রুদ্রমূর্তির সঙ্গেই পরিচিত। কিন্তু এ দিনের ঘটনায় শিশুটির প্রতি দাঁতালের মমতা দেখে আশ্চর্যই হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 


এ দিন ভোররাতে ডুয়ার্সের নাগরাকাটা ব্লকের খেরকাটাতে এই ঘটনা ঘটেছে। ছবিলাল রায় নামে এক ব্যক্তির ঘরে হামলা চালায় একটি দাঁতাল। ঘরের ভিতরে তখন স্ত্রী এবং চার বছরের মেয়ে সঙ্গীতাকে নিয়ে ছিলেন ছবিলাল। হাতির হামলায় ওই দম্পতির ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছে। তার পরেও অবশ্য মেয়ের বিশেষ ক্ষতি না হওয়ায় ভাগ্যকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন ওই দম্পতি। তাঁরা নিজেরাও কোনওক্রমে হাতির নীচ দিয়েই হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে এসে প্রাণে বাঁচেন।

শুঁড়ে পেঁচিয়ে শিশুটিকে ওই দাঁতাল যখন বাইরে রাখতে যায়, তখন তার সামান্য আঘাত লাগে। কারণ হাতির শুঁড়ের চাপেই কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। পরে শিশুটিকে মাল হাসপাতালে ভর্তিও করতে হয়। ঘর হারিয়ে কার্যত খোলা ছাদের নীচে এসে দাঁড়ানো পরিবারটি এখন ফের হাতির হামলার আতঙ্কে ভুগছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বন দফতরের আধিকারিকরা।