আবগারি অভিযানের ভয়ে মদ তৈরির উপকরণ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল জঙ্গলে। হাতির পাল হাজির হয়ে সাবাড় করে সেই মদ। এরপর মত্ত হাতির পালের হানা চলে গ্রামে। হাতির তাণ্ডবে ঘর ছেড়ে পালায় গ্রামবাসীরা।

ফের হাতির পাল হানা দিল পশ্চিম মেদিনীপুরের গুড়গুড়িপালে। বেশ কয়েকদিন ধরেই পশ্চিম মেদিনীপুরের নোনাশোল, কলসিভাঙ্গা, পিড়াকাটা, চাঁদড়া এলাকায় ৭০ ও ৩০ টির পৃথক দুটি দল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দুদিন আগে ৭০ টি হাতির পাল লালগড় গেলেও ৩০ টির পালটি পিড়াকাটার জয়নারায়ণপুর থেকে ফিরে চাঁদড়া রেঞ্জের গুড়গুড়িপাল বিট এলাকায় প্রবেশ করে। শনিবার সন্ধ্যা হতেই হাতির পাল ঢুকে পড়ে গুড়গুড়িপালে। এলাকার মানুষজন মেদিনীপুর- ধেড়ুয়া রাস্তার পাশে ব্যারিকেট করে সাবধান করে সাধারণ মানুষকে। রাস্তা পেরিয়ে হাতি যাতে লোকালয়ের কৃষিজমিতে প্রবেশ করে সেদিকেও উদ্যোগ নেয়। গ্রামবাসী ও হুলা পার্টিরদের হাতে আগুনের গোলা দেখে হাতি বাধা পেয়ে জঙ্গলেই আটকে থাকে। 

অন্যদিকে, আবগারির নিয়মিত অভিযানের ফলে চোলাই মদের কারবারিরা বাড়িতে মদ তৈরির উপকরণ না রেখে গুড়গুড়িপাল গ্রামের জঙ্গলে রেখেছিল। সেখানে হাজির হয় হাতির পাল। প্রায় ২০০ লিটার মদ তৈরির উপকরণ (গ্রাম্য ভাষায় জাব বলে) ছিল। হাতির পাল সেখানে গিয়ে সেগুলি খেতে শুরু করে দেয়। গ্রামবাসীরা দেখতে পান তিন ঘণ্টা ধরে পুরোটা খেয়ে ফেলে হাতির পাল। মত্ত হয়ে পড়ে দলের সর্দার দাঁতাল। কোনদিকে যাবে দিশেহারা হয়ে পড়ে পুরো পালটি। ওখান থেকে পালটি পৌঁছে যায় মণিদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের মুচিবেড়িয়া এলাকায়। সেখানে এই মত্ত দাঁতালটি অসীম নায়েক ও তুলসী নায়েকের দুটি বাড়ি ভাঙে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যাপক ধানি জমি। 

ভাদুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা গঙ্গাধর হেমরম বলেন, হাতির পালটি তার পাঁচ বিঘা ধানি জমি নষ্ট করেছে। ক্ষতিপূরণও ঠিক মতো পান না বলে অভিযোগ। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন বনদপ্তর ও হুলা পার্টির বিরুদ্ধে। মুচিবেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, নয়া গ্রামের হুলা পার্টির লোকজন হাতিগুলিকে তাদের গ্রামে ইচ্ছে করে ঢুকিয়ে দেয়। সূত্রের খবর, বাড়ি ভাঙার পরই গ্রামবাসীরা লাঠি নিয়ে তাড়া করে হুলা পার্টির লোকজনদের। যদিও বনদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,গতকাল কোনও হুলা পার্টি ঐ এলাকায় হাতি নিয়ে যায়নি। হাতির পালটি চোলাই খাওয়ায় দিশেহারা হয়ে ওই দিকে গিয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী সকালে এলাকায় বন দফতরের লোকজন গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।