দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হতেই রাজ্যের একাধিক কেন্দ্র থেকে ইভিএম বিকলের অভিযোগ ওঠে। পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা সহ বিভিন্ন জায়গায় এই প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভোটদানে দীর্ঘ বিলম্ব হয় এবং ভোটারদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হতেই রাজ্যের একাধিক জায়গা থেকে ইভিএম বিকলের অভিযোগ সামনে এসেছে, যার ফলে সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।

পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল বয়েজ স্কুল-এর বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার ১৩৯ নম্বর বুথে মকপোলের পরই ইভিএম খারাপ হয়ে যায়। ফলে ভোটগ্রহণ শুরু করতে বিলম্ব হয়। একইভাবে নদিয়ার নবদ্বীপ-এর ৬৯ নম্বর বুথে ভোট শুরুর আগেই ইভিএম বিকল হয়ে পড়ে, যার জেরে প্রায় এক ঘণ্টা ভোট বন্ধ থাকে।

উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার ১৭৩ নম্বর বুথ, ভ্যাবলা ট্যাটরা স্যার রাজেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়-এ ইভিএম কাজ না করায় ভোটগ্রহণে বিঘ্ন ঘটে। মকপোলের সময় থেকেই সমস্যা থাকায় ভোট শুরুর পরেও বিলম্ব হয় এবং স্কুলের গেটের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

একই চিত্র হাবরা-র ২০৯ নম্বর মডেল বুথেও। দীর্ঘক্ষণ ইভিএম বিকল থাকার পর ভোট শুরু হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার মেশিন বিকল হয়ে পড়ে। ফলে ভোটারদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

নদিয়ার রানাঘাট উত্তর-পূর্ব কেন্দ্রের রামনগর বড় চুপরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮২ ও ৮৩ নম্বর বুথেও একই সমস্যা দেখা যায়। ইভিএম বিকলের কারণে দীর্ঘ সময় ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে এবং সাধারণ মানুষকে লাইনে অপেক্ষা করতে হয়।

হাওড়ার জগৎবল্লভপুর বিধানসভার শিয়ালডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৭৯-২৮০ নম্বর বুথে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইভিএম খারাপ থাকে। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও ভোট দিতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভোটাররা।

পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ হাই স্কুল দক্ষিণে তিনটি বুথের মধ্যে ১৮১এ ও ১৮২ নম্বর বুথে ভোট শুরু হলেও ১৮১ নম্বর বুথে দীর্ঘ সময় ভোটগ্রহণ শুরুই হয়নি। সেখানে প্রায় ৬৬০ জন ভোটার অপেক্ষা করতে থাকেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

সব মিলিয়ে, দিনের শুরুতেই একাধিক জায়গায় ইভিএম বিকলের ঘটনা ভোট প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চলছে, তবুও সাধারণ ভোটারদের ভোগান্তি এড়ানো যায়নি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এই ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।