কাশ্মীরে নিহত মুর্শিদাবাদের পাঁচ বাঙালি শ্রমিক নিহতদের বাড়ি সাগরদিঘির ব্রাহ্মণী গ্রামে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে বাকরুদ্ধ গোটা গ্রাম উদ্বিগ্ন অন্যান্য শ্রমিকদের পরিবারও

মাত্র মাসখানেক আগে ছুটি কাটিয়ে কাশ্মীরে ফিরেছিলেন কামিরুদ্দিন, মুরসালিমরা। কেউ বা ফিরেছিলেন আরও কিছুদিন আগে। দু' দিন আগেই ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথাও হয়েছিল কারও কারও। গত কয়েকদিনে যেভাবে কাশ্মীরে আসা ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদের টার্গেট করছিল জঙ্গিরা, তাতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এই ঠিকা শ্রমিকরা। কিন্তু প্রিয়জনরা ফিরে আসার আগেই যে কাশ্মীর থেকে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির গ্রামে এমন মর্মান্তিক খবর এসে পৌঁছবে, তা ভাবতে পারেননি কেউই। একটি দুঃসংবাদেই ব্রাহ্মণী গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মঙ্গলবার কাশ্মীরের কুলগামে পাঁচ বাঙালি শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। এঁরা প্রত্যেকেই মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির ব্রাহ্মণী গ্রামের বাসিন্দা। মৃতরা হলেন মুরসেলিম শেখ, কামিরুদ্দিন শেখ, শেখ মহম্মদ রফিক, শেখ নিজামুদ্দিন এবং মহম্মদ রফিক শেখ। আহত হয়েছেন জাহিরুদ্দিন নামে আরও এক শ্রমিক। মূলত কাশ্মীরের আপেল বাগানেই ঠিকা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এই শ্রমিকরা। 

কাশ্মীরের আপেল বাগানে বেশি মজুরির আশাতেই কাজ করতে যেতেন মুর্শিদাবাদের বহু শ্রমিক। তার উপর থাকা, খাওয়ার খরচও লাগত না। মুরসেলিম, কামিরুদ্দিনের মতো অনেকেই দশ, পনেরো বছর ধরে কাশ্মীরে কাজ করছিলেন। তাঁদের উপার্জনের উপরেই নির্ভরশীল ছিল পরিবার। ফলে একদিকে যেমন স্বজন হারানোর যন্ত্রণা, তার সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রবল অনিশ্চয়তাও গ্রাস করেছে নিহত শ্রমিকদের পরিবারগুলিকে। কাশ্মীর থেকে ফিরে আসা ওই গ্রামেরই এক শ্রমিকের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই যেভাবে কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্তে ভিন রাজ্য থেকে আসা ট্রাকচালক বা বাসিন্দাদের উপরে হামলা করছিল জঙ্গিরা, তাতে ভয় পেয়েই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিহত শ্রমিকরা। বুধবারই তাঁদের পশ্চিমবঙ্গে ফেরার ট্রেন ধরার কথা ছিল বলেও খবর। কিন্তু সেই সুযোগ আর পেলেন না নিহত শ্রমিকরা। 

আরও পড়ুন- এবার জঙ্গিদের নিশানায় বাঙালি, কাশ্মীরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মুর্শিদাবাদের ৫ শ্রমিক

মঙ্গলবার রাতে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই নিহতদের পরিবারের উদ্বিগ্ন সদস্যরা সাগরদিঘি থানায় ভিড় করেন। কাশ্মীরে অন্য যে শ্রমিকরা ওই এলাকা থেকে কাজ করতে গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও থানায় এসে কাশ্মীরের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। কিন্তু তখনও পুলিশের কাছে ঘটনা সম্পর্কে যথাযথ তথ্য না থাকায়, থানা থেকেও খুব বেশি তথ্য জানানো সম্ভব হয়নি। 

নিহত শ্রমিকদের পরিবারের দুই মহিলা সদস্য আবেদা বিবি ও মোমিনা বিবি বলেন,'সোমবার আমাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তার পরেই মাত্র এক দিনের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিক ভারত সরকার। আমরা সেটাই চাই। আর যেন কোনও শ্রমিককে এই ভাবে প্রাণে না মরতে হয়।'

জেলা পুলিশের এক কর্তা তন্ময় সরকার বলেন, 'পুলিশের তরফ থেকে কাশ্মীরে কর্মরত মুর্শিদাবাদের অন্যান্য শ্রমিকদের খোঁজ খবর নেওয়া শুরু হয়েছে।'