পরাগ মজুমদার, মুর্শিদাবাদ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে, কী তাঁর পরিচয়, এর কিছুই বোঝেনা দু' বছরের ছোট্ট নুসরত। কিন্তু তার বাবা- মা জানেন, মুখ্যমন্ত্রী না থাকলে হয়তো মেয়ের দু' বছরের জন্মদিনটাই পালন করা যেত না। তাই ছোট্ট নুসরতের দু' বছরের জন্মদিনে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেই কেক কাটা হল। 

কয়েকদিন আগেই রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়েছিল মুর্শিদাবাদের ডোমকল। সেই ডোমকলের বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া রমনাবসন্তপুর গ্রামেই বাবা- মার সঙ্গে থাকে নুসরত। কিন্তু কেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ঋণী নুসরতের বাবা- মা? ছোট্ট শিশুটির মা বলছেন , 'মুখ্যমন্ত্রী না থাকলে আমার এই ছোট্ট মেয়েকে হয়তো আজ আর প্রাণে বাঁচাতে পারতাম না। তাই ওর দ্বিতীয় জন্মদিন মুখ্যমন্ত্রীর নামেই উৎসর্গ করেছি।'

আরও পড়ুন- বললেন কম, শুনলেন বেশি, কৃতিত্ব প্রশান্ত কিশোরের নাকি মমতারই

জানা গিয়েছে, বছর দু'য়েক আগে নুসরতের  জন্মের আগেই সমস্যার সূত্রপাত। প্রসবের জন্য ডোমকল  সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হন নুসরতের মা নিলুফার বিবি। কিন্তু প্রসবের আগে আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে ধরা পড়ে, নিলুফার গর্ভস্থ শিশুটির গলব্লাডারে পাথর রয়েছে।  বিরল এই সমস্যা ধরা পড়ায় ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিলুফারকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা নিলুফারের অস্ত্রোপচার করেন । ওই গৃহবধূ একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন ,তার নাম রাখা হয় নুসরত খাতুন । কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, কলকাতায় নিয়ে গিয়ে দ্রুত সদ্যোজাতের অস্ত্রোপচার করাতে হবে। 

পেশায় একটি বেসরকারি স্কুলে ছোট ক্যান্টিন চালানো নুসরতের বাবা জাহাঙ্গির আলম কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন। তখনই স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতার উদ্যোগে নুসরতের বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কানে যায়। দ্রুত জেলাশাসকের মাধ্যমে কলকাতায় এনে শিশুটির অস্ত্রোপচার করানোর ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেয় মুখ্যমন্ত্রীর দফতর। এর কয়েকদিনের মধ্যেই ছোট্ট নুসরতের অস্ত্রোপচার হয় কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে। মেয়ের জীবন ফিরিয়ের জন্য তাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চির কৃতজ্ঞ জাহাঙ্গির এবং নিলুফার। মুখোমুখি কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে ধন্যবাদ জানানোর সুযোগ হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তাই মেয়ের জন্মদিনটাই মুখ্যমন্ত্রীকে উৎসর্গ করেন নুসরতের বাবা- মা। 

মেয়ের জন্মদিনে নিলুফারের মা বললেন, 'মৃত্যুর চেয়ে জীবন ঢের বড় গো।আর আমাদের প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী সেই কাজই করে দেখিয়েছে আমাদের জন্য।তিনি না থাকলে আমার এই ছোট্ট মেয়ে কে হয়তো আজ আর প্রাণে বাঁচাতে পারতাম না।' আর নুসরতের বাবা জাহাঙ্গির বলছেন, 'মেয়েকে যখন আমার পাগলের মতো অবস্থা, তখন মুখ্যমন্ত্রী দেবদূতের মতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমি তাঁর কাছে চিরঋণী। আর কৃতজ্ঞ সংবাদ মাধ্যমের কাছে।' নুসরত অবশ্য এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। 

ছোট্ট নুসরত অবশ্য অত কিছু বোঝেনা, জন্মদিনে পছন্দের কেক, বেলুন আর অনেক উপহার পেয়েই আনন্দে মেতেছিল সে!