ফরাক্কায় জাতীয় সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।  বাস ও ট্যাঙ্কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন ৬ জন। আহত কমপক্ষে ১২ জন। আহতের প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে কয়েকজনকে স্থানান্তরিত করা হয় মুর্শিদাবাদ জেলা হাসপাতালে। 

ঘড়িতে তখন ভোর সওয়া পাঁচটা।  ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে উত্তরঙ্গ থেকে বহরমপুরের দিকে যাচ্ছিল এক যাত্রীবাহী বাস। কাকভোরে বাসের বেশিরভাগ যাত্রীই ঘুমোচ্ছিলেন। আর উল্টো পথে কলকাতা থেকে অসমের দিকে যাচ্ছিল এক তেলের ট্যাঙ্কার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ফরাক্কার এনটিপিসি মোড়  ও বল্লালপুরের মাঝে খয়রাকাদি এলাকায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে বাস ও তেলের ট্যাঙ্কারটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান বাস ও ট্যাঙ্কারের চালক। আহত হন কমপক্ষে ১২ জন। দুর্ঘটনার পর প্রথমে উদ্ধারকাজে নামেন স্থানীয় বাসিন্দারাই।  ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকলও। বাসের জানলা দিয়ে আহতদের উদ্ধার করে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। হাসপাতালে আরও চারজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।  দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসের বেশ কয়েকজন আহত যাত্রীকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা হাসপাতালে।  জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটি যিনি চালাচ্ছিলেন, তাঁর নাম সুকুমার দাস।  আর ট্যাঙ্কারের চালক ছিলেন সোনু কুমার সিং। বছর তিরিশের ওই যুবকের বাড়ি বিহারে। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দু'জনই।  গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ট্যাঙ্কারের খালাসি অজয় সিং।

আরও পড়ুন: জমি নিয়ে বিবাদের জের,কাকাকে গুলি করে খুন করলো ভাইপো

কিন্তু জাতীয় সড়কে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল কীভাবে? তা কিন্তু স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, বাস ও ট্যাঙ্কার দুটোই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছিল। শেষপর্যন্ত আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি চালকরা। তার জেরেই ঘটে দুর্ঘটনা। এদিকে আবার ট্যাঙ্কারের খালাসির দাবি, বাসটিই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্যাঙ্কারে ধাক্কা মারে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।