ভালবেসে বাড়ির অমতে বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু স্ত্রীকে ভালবাসলেও বিয়ের পর জন্মানো মেয়েকে ভালবাসতে পারেনি বাবা। বরং কন্যাসন্তানকে বোঝা মনে করে কীভাবে তাকে খুন করা যায়, সেই ফন্দি আঁটতে শুরু করেছিল বাবা। শেষ পর্যন্ত আট মাসের শিশুকন্যাকে পুকুরে ডুবিয়ে মারল গুণধর বাবা। 

নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের রানিতলা থানার জীবনপুরের দাসপাড়া গ্রামে। অভিযুক্ত ওই বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম মামুন শেখ। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় খুন এবং প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ এনেছে পুলিশ। আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ধৃতের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে লালবাগ আদালত। 

স্থানীয় সূত্রে খবর, বছর দু' য়েক আগে বাড়ির অমতে মামুনের সঙ্গে নাইমা বিবি নামে এক তরুণীর প্রেম করে বিয়ে হয়। মাস আটেক একটি কন্যাসন্তান হয় তাঁদের। নাইমার অভিযোগ, মেয়ে হওয়ার পর থেকেই অখুশি ছিল মামুন। কন্যাসন্তানকে মেনে নিতে পারেনি সে। এই নিয়ে দু' জনের মধ্যে অশান্তিও শুরু হয়। নাইমার অভিযোগ, বেশ কয়েকবার মেয়ে সাইরুনকে খুন করার ছক কষেছিল তাঁর স্বামী। কিন্তু প্রত্যেকবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান নাইমা। শেষ পর্যন্ত সোমবার মেয়েকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয় মামুন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরেও মেয়েকে নিয়ে  সে না ফেরায় সন্দেহ হয় নাইমার। পরে এলাকারই একটি পুকুরে ওই শিশুটির মৃতদেহ ভাসতে দেখা যায়। 

আরও পড়ুন- ১২০ বছর আগে কি পৃথিবীতে অস্তিত্ব ছিল গ্রেটার, এক ছবি ঘিরে তুমুল বিতর্ক

আরও পড়ুন- সুমাতা থেকে কুমাতা, ২০ দিনের কন্যাশিশু ১৫ হাজারে বিক্রি করলেন মা

ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দেয় অভিযুক্ত বাবা। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে রানিনগর থানার পুলিশ। শিশুটির দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এলাকা ছেড়ে পালানোর আগেই অভিযুক্ত মামুনকে সাঁকোপাড়া মোড় থেকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার আদালতে তোলার সময় অভিযুক্ত মামুন দোষ স্বীকার করে বলে, 'কী করে এমন ঘটনা ঘটল জানিনা। রাগের মাথায় ভাল- মন্দ জ্ঞান হারিয়ে এমন কাজ করে ফেলেছি।' মামুনের স্ত্রী নাইমা বিবি বলেন, 'যেভাবে কষ্ট দিয়ে আমার ছোট্ট মেয়েকে খুন করা হয়েছে, তার উপযুক্ত শাস্তি যেন আমার স্বামীকে দেওয়া হয়।'