চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন মেয়ে। আর্থিক অনটনে ভিন রাজ্যে সেই স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে যাওয়ার পথেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তাঁর। উত্তরপ্রদেশে ছিনতাইয়ে বাঁধা দিতে গিয়ে ট্রেন থেকে পড়ে কয়েকদিন আগেই মৃত্যু হয় দুর্গাপুরের রাচি কলোনির বাসিন্দা মনীষার ডোম এবং তাঁর মায়ের। বৃহস্পতিবার ছিল মনীষার জন্মদিন। একবুক যন্ত্রণা আর চোখের জল নিয়েই রাঁচি কলোনির এক চিলতে ঘরে মেয়ের ছবির সামনে কেক কাটলেন মনীষার বাবা দিলীপ ডোম। 

বেঁচে থাকলে বৃহস্পতিবার ২২ বছরে পা দিতেন মনীষা। মেধাবী মেয়েকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল দিলীপবাবুর। কিন্তু স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাঁর আর্থিক অবস্থা। পেশায় গাড়িচালক দিলীপবাবুর মেয়েকে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়ানোর সামর্থ্য ছিল না। পর পর দু' বার জয়েন্ট উত্তীর্ণ হলেও ক্রমতালিকায় ভাল জায়গা না পাওয়ায় সরকারি মেডিক্যাল কলেজে সুযোগ পাননি মনীষা। কয়েকদিন আগে মাকে নিয়ে রাজস্থানের কোটার একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফের জয়েন্টে বসার জন্য প্রস্তুতি নিতে রওনা দিয়েছিলেন মনীষা। কিন্তু গত ২ অগাস্ট দিল্লি থেকে রওনা দেওয়ার পর মনীষার মা মীনাদেবীর ব্যাগ ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে কয়েকজন দুষ্কৃতী। বাধা দেওয়ায় মীনাদেবীকে তারা চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ। মাকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেন মনীষাও। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। 

আরও পড়ুন- থমকে গেল ডাক্তারির স্বপ্ন, উত্তরপ্রদেশে ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু দুর্গাপুরের মা, মেয়ের

মেয়েকে হারালেও তাঁর জন্মদিন কীভাবে ভুলবেন বাবা? তাই এ দিন মনীষার ছবির সামনেই মোমবাতি জ্বালিয়ে কেক কাটলেন তিনি। দিলীপবাবুর মতোই তাঁর প্রতিবেশী এবং আত্মীয়দের চোখেও তখন জল। কান্নাভেজা গলায় দিলীপবাবু বলেন, 'প্রতি বছর এই দিনটা কত আনন্দ করে কাটেয়েছি। আজ মা, মেয়ে কেউই নেই। তাই অসহ্য যন্ত্রণা বুকে নিয়েই মেয়ের খুশির জন্য ওর ছবির সামনে কেটে জন্মদিন পালন করলাম। মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। আমার স্বপ্নপূরণও আর হল না।' 

মনীষা এবং তাঁর মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশ বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে বলে খবর। ধৃতদের কাছ থেকে মনীষা এবং তাঁর মায়ের ছিনতাই হওয়া ব্যাগ এবং টাকা পয়সাও উদ্ধার হয়েছে।