কলকাতা পুরসভার মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। শুক্রবার কলকাতা পুরসভায় একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে প্রায় সাড়ে সাত বছর মেয়র পদে ছিলেন কলকাতা বন্দরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ।

কলকাতা পুরসভার মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। শুক্রবার কলকাতা পুরসভায় একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে প্রায় সাড়ে সাত বছর মেয়র পদে ছিলেন কলকাতা বন্দরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ। তিনি পুর চেয়ারপার্সন মালা রায়ের দফতরে গিয়ে পদত্য়াতপত্র জমা দেন। ফিরহাদ বলেন, “আমি ইস্তফা দিলাম। চেয়ারের মর্যাদা রাখতে পারছি না। চেয়ারের অসম্মান করতে পারব না।”

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ফিরহাদ হাকিম কলকাতা পুরসভার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। ২০০০, ২০০৫ ও ২০১০ সালে এই ওয়ার্ড থেকেই কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে ফিরহাদ পুরভোটে লড়েননি। ২০১৮ সালে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পর কলকাতার মেয়র হওয়ার পর ওই ওয়ার্ড থেকেই উপনির্বাচনে জিতে আসেন ফিরহাদ। ২০২১ সালে ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন। মেয়র হিসাবে মেয়াদ শেষ হওয়ার মাস ছয়েক আগেই ইস্তফা দিলেন।

বৃহস্পতিবারই বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর (Krishna Chakraborty) পদত্যাগ করেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদ ছাড়েন তিনি। বিধাননগর পুরনিগমের কমিশনারের কাছে পদত্যাগের চিঠি জমা দেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং দফতরের সচিবের কাছেও পদত্যাগপত্রের কপি পাঠিয়েছেন কৃষ্ণা। কাউন্সিলর হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। ২০১৯ থেকে ২০২২, তার পর ২০২২ থেকে ২০২৬-এর ৪ জুন পর্যন্ত দু’দফায় বিধাননগরের মেয়র পদে ছিলেন কৃষ্ণা। মেয়র হিসাবে আরও প্রায় আট মাসের মেয়াদ বাকি ছিল কৃষ্ণার। ২০১৯-এর আগে বিধাননগরের মেয়র ছিলেন সব্যসাচী দত্ত। তার পর সব্যসাচীকে সরিয়ে কৃষ্ণাকে মেয়র পদে নিয়ে আসে তৃণমূল। আজকের সিদ্ধান্তের ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই বিধানসভা পুরনিগমও তৃণমূলের ছাড়া হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ফিরহাদ হাকিম কলকাতার মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন, এমন জল্পনা গত কয়েকদিন ধরেই চলছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই অনুমতি দিয়েছেন, কুণাল ঘোষ এমনটা দাবি করেছিলেন। কুণাল বলেন, “ফিরহাদ হাকিম আগে একাধিক বার নেত্রীকে মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। নেত্রী তাতে সম্মতি দিয়েছেন।” শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন ফিরহাদ হাকিম।