রাজ্য়ে আবার আক্রান্তের খোঁজ। আবার সেই বিদেশ-ফেরত ঔদ্ধত্য়।   ইংল্য়ান্ড-ফেরত ভাইয়ের সংস্পর্শে আসা  যুবতীর থেকে এবার নদিয়ার তেহট্টে একই পরিবারে পাঁচজন আক্রান্ত হলেন করোনাভাইরাসে। যাঁদের মধ্য়ে রয়েছে ন-মাস ও ছ-বছরের দুই শিশু। অথচ ওই যুবতীকে  কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা! ২৭ বছরের ওই যুবতী-সহ বাকিদের কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে আনা হয়।

নদিয়ার ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য়ে করোনার সংক্রমণ কলকাতা থেকে সোজা ঢুকে পড়ল জেলায়। যদিও এই ঘটনায় স্বাস্থ্য় দফতররে একাংশের ক্ষোভ, চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চললে কিন্তু এই ঘটনা অনায়াসেই এড়িয়ে চলা যেত।  

নদিয়ায় কী করে ছড়াল এই করোনা?

জানা গিয়েছে, ওই যুবতীর এক ভাই গত ১৬ মার্চ লন্ডন থেকে দিল্লিতে ফেরেন। দিল্লিতে তাঁকে নিতে আসেন ওই যুবতী-সব পরিবারের কয়েকজন। দিল্লিতেই পরিবারের লোকজনেরা একসঙ্গে দেখা করে। চলে ফ্য়ামিলি মিট। আরপ তারপরেই ওই লন্ডনফেরত ভাইয়ের শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা যায়। দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপরাতালে তাঁকে ভরতি করা হয়। সেখানে কোয়ারেনটাইনে রাখা হয় তাঁকে। সেই সময়ে চিকিৎসকরা ওই যুবতীকেও কোয়ারেনটাইনে থাকার  পরামর্শ দেন। কিন্তু বিদেশ-ফেরত ঔদ্ধত্য়ে সেই পরামর্শ উপেক্ষা করে  রাজধানী এক্সপ্রেসে চেপে শিয়ালদহে চলে আসেন ওই যুবতী ও তাঁর পাঁচসঙ্গী। তারপর সেখান থেকে লালগোলা প্য়াসেঞ্চারে করে পৌঁছন বেথুয়াডহরিতে। সেখান থেকে অটোয় তেহট্টের বার্নিয়া গ্রামের বাড়িতে ফেরেন ওই যুবতী-সহ পরিবারের পাঁচজন। যুবতীর এক সঙ্গী ফেরেন বিমানে করে। আর তারপর থেকেই পরিবারের পাঁচজন আক্রান্ত হন করোনায়। যাঁদের মধ্য়ে রয়েছে ন-মাস  ও ছ-বছর বয়সের দুই শিশু এবং ওই যুবতী নিজেও।

আক্রান্তদের শনিবার বেলেঘাটা আইডি  হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। জানা গিয়েছে, মা-বাবা ছাড়া মোট সাতজন সরাসরি ওই যুবতীর সংস্পর্শে এসেছিলেন। রাজ্য়ের স্বাস্থ্য় দফতর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তাঁদের খোঁজে নেমেছে। প্রসঙ্গত, রাজ্য়ে প্রথম করোনা আক্রান্তের সঙ্গে বিদেশ যোগ পাওয়া গিয়েছিল। রাজ্য়ের স্বরাষ্ট্র দফতরের বিশেষ সচিবের ছেলে লন্ডন থেকে আসার পর তাঁর শরীরে উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও তিনি কোয়ারেন্টিনে যাননি। বরং সেই অবস্থায় অন্য় অনেকের সংস্পর্শে এসেছিলেন। জানা গিয়েছে, নদিয়ায় যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা।