নন্দীগ্রামের এক সময়ের একচ্ছত্র সম্রাট ছিলেন। তবে সেই সূর্য আজ অস্তাচলে। লক্ষ্মণ শেঠ আজ অধিকারী গড়ে শুধুই এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তবে এবার কি হাওয়া বদলাতে চলেছে ? তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন লক্ষ্মণ শেঠ। তাহলে কি এবার নন্দীগ্রামে একদা বিশ্বস্ত সৈনিক শুভেন্দু অধিকারীকে টেক্কা দিতে লক্ষ্মণ শেঠকে ব্যবহার করবেন মমতা?  জল্পনা রয়েছে অনেকটাই। 

জল্পনা তৈরি করেছেন লক্ষ্ণণ শেঠ নিজেই। বৃহস্পতিবার তৃণমূলে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন লক্ষ্ণণ শেঠ। সিপিএম দল থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর প্রথমে তিনি নিজে একটি রাজনৈতিক দলের সূচনা করেন। কিন্তু খুব বেশি সাড়া ফেলতে পারেনি তাঁর সেই দল। এরপর বিজেপিতে যোগদান করেন তিনি। ২০১৯ সালের বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদান করেন তিনি। সেই বছরই তমলুক লোকসভায় কংগ্রেসের প্রার্থীও হন লক্ষ্মণ চন্দ্র শেঠ। তবু হালে পানি পাননি

লক্ষ্মণ শেঠ এদিন বলেন , মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সামিল হওয়ার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে চান তিনি।  সেই সঙ্গে তিনি আরো বলেন  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একমাত্র নেত্রী, যার কাছে বিজেপির উচ্চ স্তরের নেতারা হার স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। তিনি আরো বলেন বিজেপি ও কংগ্রেস দলদুটির মধ্যে কোনও গণতন্ত্র নেই। তাই তিনি এই দুটি দলই প্রত্যাখ্যান করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর মাসেই নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যায় হলদিয়ায়। লক্ষ্মণ শেঠ ও কুণাল ঘোষকে দেখা যায় এক মঞ্চে। যাকে ঘিরে রাজনীতে নয়া সমীকরণ তৈরি হল বলে মত ব্যক্ত করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। অনুষ্ঠান মঞ্চে লক্ষণ শেঠের ভূয়সী প্রশংসা করেন কুণাল ঘোষ।

অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম আন্দোলন নিয়ে লক্ষণ শেঠের দাবি ছিল, নন্দীগ্রামের ঘটনায় তাঁকে জড়িয়েছিল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। তিনি চাইতেন না নন্দীগ্রামে হিংসার ঘটনা ঘটুক। সেই নন্দীগ্রাম থেকেই আন্দোলন করে বাংলায় সরকার গড়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর একদশক পর লক্ষণ শেঠকে কুণাল ঘোষের পাশে দেখা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।