১৪৪ ধারার মধ্যেই ভাটপাড়ায় গেল বিজেপি-র সংসদীয় দল। আর তার পরেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। বিজেপি-র অভিযোগ, সংসদীয় দলকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার চেষ্টা করা হয়। পাল্টা ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি অজয় ঠাকুরকে নিগ্রহ করার অভিযোগ উঠল বিজেপি কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। 

এ দিন ভাটপাড়ায় মৃত দুই যুবকের বাড়িতে যান বিজেপি-র সংসদীয় দলের প্রতিনিধিরা। তাঁদেরকে নিজেদের দলীয় সমর্থক বলে দাবি করেছে বিজেপি। সেখানে গিয়ে সাংসদ সুরিন্দর সিং আহলুওয়ালিয়া অভিযোগ করেন, প্রশাসনের মদতেই ভাটপাড়ায় গুলি, বোমা নিয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। তিনি বলেন, 'দেশের কোথাও নির্বাচন ঘিরে এমন অশান্তি হচ্ছে না। এই অশান্তির দায় মুখ্যমন্ত্রীর। পুলিশ নিরীহদের গুলি করে মারছে। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে এখানে।' এ দিন সিপিএম এবং কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দলও ভাটপাড়ায় যায়। দলে ছিলেন বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী, আবদুল মান্নানরা।

বর্ধমান- দুর্গাপুরের সাংসদ ছাড়াও বিজেপি-র প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাংসদ সত্যপাল সিং এবং বি ডি রাম। বিজেপি সাংসদরা নিহতদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার সময় তাঁদের লক্ষ্য করে বোমা মারার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ তোলেন বিজেপি কর্মী- সমর্থকরা। তার পরেই পাল্টা পুলিশের উপরে চড়াও হন তাঁরা। 

এর কিছুক্ষণ পরেই ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি অজয় ঠাকুরকে ভিড়ের মধ্যে কলার ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর পোশাক ধরেও টানা হয়। খবর পেয়ে উচ্চপদস্থ ওই পুলিশ কর্তাকে উদ্ধার করতে যায় বাহিনী। তখনই জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। অভিযোগ, পুলিশের লাঠিচার্জে এক বৃদ্ধে মাথা ফেঁটে যায়। পুলিশ এবং জনতার মধ্যে ফের খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এর পরেই রাস্তায় নামেন ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। শুক্রবার রাতেই তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন। যে এলাকাগুলি থেকে অশান্তি ছড়াচ্ছে, সেখানে নিজে বাহিনী নিয়ে পায়ে হেঁটে টহল দেন পুলিশ কমিশনার। তার পরেই পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু কতক্ষণ পরিস্থিতি শান্ত থাকবে, তা নিয়েই এখন সংশয়ে ভাটপাড়ার বাসিন্দারা।  

Bhatpara Clash, BJP Parliamentary Team at Bhatpara, ভাটপাড়ায় অশান্তি