Gangasagar Mela 2027: বদলের বাংলায় এবার ঐতিহাসিক গঙ্গাসাগর মেলা ঘিরে প্রস্তুতি তুঙ্গে। থাকছে না ভিআইপি ব্যবস্থা। পুণ্যার্থীদের যাতায়াত থাকা খাওয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। জানা গিয়েছে, ২০ লক্ষ টেন্ট তৈরির পরিকল্পনা রাজ্য প্রশাসনের। আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।

Gangasagar Mela 2027: ‘সব তীর্থ বারবার গঙ্গাসাগর একবার’ এই প্রবাদকে আরও একবার বাস্তবে তুলে ধরতে বড়সড় প্রস্তুতি গঙ্গাসাগর মেলাকে ঘিরে। এবারের গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিতে একাধিক পরিকল্পনা করছে বিজেপি সরকার। আর সেই পরিকল্পনার অন্যতম বড় চমক পুণ্যার্থীদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা। শুধু তাই নয় মেলায় থাকছে না কোনও ভিআইপি ব্যবস্থা। সাধারণ পুণ্যার্থী থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তি সকলের জন্য একই পরিষেবা নিশ্চিত করতে চাইছে প্রশাসন।

প্রশাসন সূত্রে খবর এবারের গঙ্গাসাগর মেলাকে শুধুমাত্র মেলা প্রাঙ্গণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। কলকাতা থেকে কপিলমুনির আশ্রম এবং সেখান থেকে বাড়ি ফেরা পর্যন্ত গোটা যাত্রাপথকে একটি সমন্বিত পরিষেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ২০ লক্ষ অত্যাধুনিক টেন্ট তৈরির ভাবনা রয়েছে। সেখানে বিনামূল্যে থাকার সুযোগ পাবেন পুণ্যার্থীরা।

কী কী বিশেষ ব্যবস্থা থাকছে এবারের গঙ্গাসাগর মেলায়?

প্রথমত রাজ্যে প্রবেশের পর থেকেই পুণ্যার্থীদের অভ্যর্থনা জানানো এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। কলকাতা থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি যাতায়াতের চাপ সামলাতে বাড়ানো হবে বাসের সংখ্যা। নদী পারাপারের জন্য অতিরিক্ত লঞ্চের ব্যবস্থাও করা হবে যাতে পুণ্যার্থীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না হয়।

থাকা ও খাওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তৈরি হবে অস্থায়ী শিবির। থাকবে পানীয় জল স্নানের ব্যবস্থা এবং ভাণ্ডারার আয়োজন। পুণ্যার্থীদের জন্য উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে। পুণ্যস্নানের জন্য বাড়ানো হতে পারে ঘাটের সংখ্যা। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক ব্যবস্থার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

কপিলমুনির আশ্রমে পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রেও থাকছে বিশেষ পরিকল্পনা। ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে তৈরি করা হবে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা। মেলা প্রাঙ্গণে থাকবে অত্যাধুনিক অনুসন্ধান কেন্দ্র, সচিত্র পরিচয়পত্র এবং অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক। পুণ্যার্থীদের যেকোনও সমস্যার দ্রুত সমাধানে বিভিন্ন জায়গায় গড়ে তোলা হবে সহায়তা কেন্দ্র।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কলকাতা থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত সিসিটিভি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। গোটা ব্যবস্থাকে একটি কেন্দ্রীয় নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনার ভাবনা রয়েছে প্রশাসনের।

প্রাথমিক পরিকল্পনায় নজরদারির জন্য ১০টি হেলিকপ্টার রাখার কথা ভাবা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়তে পারে সেই সংখ্যা। পাশাপাশি আকাশপথ ও জলপথে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর যৌথ নজরদারির পরিকল্পনাও রয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক বৈঠক হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

এদিকে পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ভারতীয় রেলের বিশেষ পরিষেবার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিনামূল্যে রেলযাত্রার বিষয়টিও রেল কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানীয় জল, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং ২৪ ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মীদের শিফট অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে এবারের গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরতে পরিকাঠামো পরিষেবা প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা প্রতিটি ক্ষেত্রেই বড়সড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে বিজেপি সরকার । তবে এই সমস্ত ব্যবস্থাই আপাতত পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হয় এখন সেদিকেই নজর।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।