Nandan Controversy: বদলের বাংলায় বদলে গেল নন্দন চত্বরে থাকা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত নেমপ্লেট। শুধুই কী পরিবর্তন নাকি রাজনৈতিক তরজা? বিতর্ক শুরু হতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে চর্চা। বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।

Nandan Controversy: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল। বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ। আর এবার সেই পরিবর্তনের ছাপ পড়ল বাংলার সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র নন্দনেও! নন্দন চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়া হল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলক। ফলকের উপরে করা হয়েছে রং। তবে অক্ষত রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নামাঙ্কিত ফলক। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চর্চা।

কেন এই সিদ্ধান্ত? শুধুই কি সংস্কার, নাকি এর পিছনে রয়েছে বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতার কোনও বার্তা? 

নন্দনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস। ১৯৮০ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর হাত ধরে নন্দনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। এরপর ১৯৮৫ সালে বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে উদ্বোধন হয় এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের। পরবর্তীতে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আমলে নন্দন চত্বরে যুক্ত হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলক।

কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ফের রাজনৈতিক পালাবদল। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবার রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর সেই পালাবদলের পর এবার নন্দনের ফলকেও দেখা গেল পরিবর্তনের ছাপ।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলকের উপরে রং করা হলেও জ্যোতি বসুর ফলক সরানো হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, নন্দনের ইতিহাসের কোন অংশ থাকবে, আর কোন অংশ মুছে যাবে? আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো প্রকাশের দিনই সামনে এসেছে এই পরিবর্তনের ঘটনা। ফলে চলচ্চিত্র উৎসবের আগে নন্দনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনা। একদিকে নতুন সরকারের আমলে পরিবর্তনের বার্তা, অন্যদিকে বাংলার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রাজনৈতিক ইতিহাস। নন্দনের ফলক ঘিরে বিতর্ক এখন সেই দুইয়ের মাঝখানেই। প্রশ্ন একটাই, নন্দন কি শুধুই সংস্কৃতির ঠিকানা, নাকি বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসেরও এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল? এই পরিবর্তন কি সময়ের দাবি, নাকি রাজনৈতিক প্রতীক মুছে ফেলার প্রবণতা? উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।

Scroll to load tweet…

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।