চার বছরের প্রেমের পরেও বিয়েতে বেঁকে বসেছিলেন প্রেমিকা, অভিযোগ এমনই। আর সেই হতাশাতেই আত্মঘাতী হলেন প্রেমিক। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় যুবককে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ প্রেমিকা-সহ চারজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে এক সিভিক ভলেন্টিয়ারও। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার কুচুট গ্রামে। 

আরও পড়ুন- প্রেমিকাকে ধর্ষণ করে খুন করল প্রেমিক, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ গড়বেতায়

মৃত ওই যুবকের নাম ব্রজগোপাল গঙ্গোপাধ্যায় (২৬)। তাঁর সঙ্গে ওই এলাকারই এক যুবতীর প্রায় চার বছর ধরে সম্পর্ক ছিল বলে মৃতের পরিবারের দাবি। দুই পরিবারের মধ্যে তাঁদের বিয়ে নিয়েও কথা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ব্রজগোপাল একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। 

মৃত যুবক উত্তর চব্বিশ পরগণার বারাসতে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। সেখানেই মেসে থাকতেন তিনি। গত সোমবার বারাসতেই দলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন ব্রজগোপাল। 

মৃত যুবকের মায়ের অভিযোগ, ওই যুবতী কিছু দিন আগে তাঁর ছেলেকে ফোন করে জানায়, সে এই বিয়েতে রাজি নয়। এ ছাড়াও ওই যুবতীর পরিবার এবং অভিজিৎ রেজ নামে একজন সিভিক ভলেন্টিয়ারও ব্রজগোপালকে ফোন করে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। তাঁর পরিবারের দাবি, এর পরেই ব্রজগোপাল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

আরও পড়ুন- কাটমানি ছাড়া চাকরি নেই, সরকারি অফিসেই জামাকাপড় খুলে বিক্ষোভ যুব তৃণমূলের

ওই যুবকের মৃত্যুর খবর পেতেই সোমবার কুচুট গ্রামে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। মৃত যুবকের প্রেমিকা এবং অভিজিৎ রেজ নামে ওই সিভিক ভলেন্টিয়ারকে ধরে নিয়ে এসে যুবতীর মাথায় সিঁদুর পরিয়ে দেওয়া হয়। বেশ কিছুক্ষণ রাস্তাও অবরোধ করা হয়। পরে পুলিশ এসে ওই যুবতী এবং সিভিক ভলেন্টিয়ারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মঙ্গলবার মৃত যুবকের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ওই দু' জন ছাড়াও যুবতীর বাবা এবং দিদিমাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

ধৃত যুবতীর অবশ্য দাবি, 'আমার কোনও দোষ নেই,  ব্রজগোপালের খুব মদ্যপান করত। আমি শুধু জানিয়েছিলাম যে মদ্যপান না ছাড়লে আমি বিয়ে করব না।' মঙ্গলবার ধৃতদের আদালতে তোলা হলে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।