North Bengal News: ২০২৪ সালে ‘জিআই’ তকমা পেয়েছিল কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি। এবার সেই শীতলপাটিকে জাতীয়-আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। মেলা, অনলাইন বিক্রি আর ব্র্যান্ডিং-এর মাধ্যমে চাষি ও শিল্পীদের আয় বাড়ানোই লক্ষ্য। GI ট্যাগের ফলে নকল আটকানো যাবে, দামও বাড়বে।
North Bengal News: উত্তরবঙ্গের গর্ব কোচবিহারের শীতলপাটি। ২০২৪ সালে এই ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ‘জিআই’ বা Geographical Indication তকমা পায়। এবার সেই স্বীকৃতিকে কাজে লাগিয়ে শীতলপাটির প্রচার ও বিপণনে জোর দিল রাজ্য সরকার। লক্ষ্য একটাই, শিল্পকে বাঁচানো আর শিল্পীর পেটে ভাত জোগানো।

কোচবিহার জেলার মাথাভাঙা, তুফানগঞ্জ, দিনহাটা, সিতাই ও মেখলিগঞ্জ ব্লকের প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের জীবিকা জড়িয়ে আছে এই শীতলপাটির সাথে। মুর্তা বা পাটি বেত নামে এক ধরনের জলজ গাছের ছাল ছাড়িয়ে, রোদে শুকিয়ে, রং করে হাতে বোনা হয় এই মাদুর। গরমে শরীর ঠান্ডা রাখে বলেই এর নাম ‘শীতলপাটি’। রাজ পরিবার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— সবার ঘরেই একসময় এই পাটির কদর ছিল। কিন্তু মেশিনে তৈরি সস্তার মাদুর আর প্লাস্টিকের দাপটে গত ১০ বছরে এই শিল্প প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছিল। ব্র্যান্ডিং-এর অভাবে আসল শিল্পীরা ঠিকমতো দাম পেতেন না। বাজারে ছেয়ে যেত অসম ও বাংলাদেশ থেকে আসা নকল পাটি।
হস্তশিল্প ও বস্ত্র দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চার ধাপে প্রচারের কাজ হবে। প্রথম ধাপে কলকাতার ইকোপার্ক, দিল্লির দিল্লি হাট ও মুম্বাইয়ের বড় মেলা ও প্রদর্শনীতে কোচবিহারের শীতলপাটির আলাদা ‘GI Pavilion’ থাকবে। প্রতিটি আসল পাটির সাথে GI লোগো দেওয়া ট্যাগ, হলোগ্রাম ও সার্টিফিকেট দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ONDC, Amazon Karigar ও রাজ্যের ‘বাংলার হাট’ পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইন বিক্রির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিল্পীদের ডিজিটাল ট্রেনিংও দেওয়া হচ্ছে। তৃতীয় ধাপে দুবাই, লন্ডন ও সিঙ্গাপুরে ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে শীতলপাটিকে ‘Made in Bengal’ ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরা হবে। চতুর্থ ধাপে জেলায় ‘শীতলপাটি গ্রাম’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে। সেখানে পর্যটকরা সরাসরি এসে বোনার কাজ দেখতে পারবেন এবং কিনতে পারবেন।
হস্তশিল্প দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা অরূপ সরকার বলেন, “GI ট্যাগ মানে শুধু সম্মান নয়, এটা আইনি সুরক্ষাও। এবার থেকে শুধু কোচবিহারের আসল শীতলপাটিতেই GI হলোগ্রাম থাকবে। ফলে দাম ৪০% পর্যন্ত বাড়বে। মাঝের ফড়িয়া কমবে। চাষি ও বোনা শিল্পীরা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাবেন।”
GI-এর প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। জেলার শিল্পী রমা বর্মন বলেন, “আগে ১০ ফুটের একটা পাটি ৬০ টাকায় বিক্রি করতে হত। এখন GI-এর সিল লাগার পর দোকানদাররা ১৫০ টাকা দিচ্ছেন। সরকার মেলার ব্যবস্থা করায় আমাদের নামও ছড়াচ্ছে। ছেলে-মেয়েরাও এখন এই কাজ শিখতে চাইছে।”
শুধু পাটি নয়, শিল্পীরা এখন শীতলপাটি দিয়ে ব্যাগ, টেবিল ম্যাট, ওয়াল হ্যাংগিং, ল্যাম্পশেডের মতো নতুন প্রোডাক্টও বানাচ্ছেন। ডিজাইনারদের সাহায্যে রং ও নকশাতেও আধুনিক ছোঁয়া এসেছে। তরুণ প্রজন্মও এই পেশায় ফিরতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। হস্তশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং চাষিদের আর্থিক স্বনির্ভরতা দিতেই এই উদ্যোগ। ‘জিআই’ তকমা পাওয়া শীতলপাটি এবার শুধু কোচবিহারের ঘর নয়, দেশ-বিদেশের ড্রয়িংরুমও সাজাবে। এটাই সরকার ও শিল্পীদের আশা।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


