ফুটবল সবসময়ই কেবল একটি খেলার চেয়েও বেশি কিছু। এটি স্বাধীনতা, শৃঙ্খলা এবং ঐক্যের এক মহাকাব্য। খেলার মাঠে বাইশ জোড়া বুটের শব্দ জাতি, বর্ণ ও ধর্মের ভেদাভেদকে ছাপিয়ে সাহস ও ভ্রাতৃত্বের নতুন আখ্যান রচনা করে। ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্ববাসীর কাছে শান্তির প্রতীকী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলা নেতৃত্ব দিচ্ছে।
ফুটবল সবসময়ই কেবল একটি খেলার চেয়েও বেশি কিছু। এটি স্বাধীনতা, শৃঙ্খলা এবং ঐক্যের এক মহাকাব্য। খেলার মাঠে বাইশ জোড়া বুটের শব্দ জাতি, বর্ণ ও ধর্মের ভেদাভেদকে ছাপিয়ে সাহস ও ভ্রাতৃত্বের নতুন আখ্যান রচনা করে। ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্ববাসীর কাছে শান্তির প্রতীকী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলা নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিশ্বজুড়ে সংঘাতময় পরিস্থিতির মাঝে 'অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন' (AIFF)-এর মাধ্যমে ভারত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের স্বাক্ষরিত একটি ফুটবল ফিফা-র হাতে তুলে দেবে। শান্তির দূত হিসেবে ভারতের প্রতিনিধিত্বকারী AIFF-এর সভাপতি কল্যাণ চৌবে এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এই প্রতীকী বলের সঙ্গে থাকছে শান্তি ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে বিশেষভাবে রচিত ও সুরারোপিত একটি গান—বাংলা ও ইংরেজি ভাষায়—যা পরিবেশন করবেন কিংবদন্তি শিল্পীরা: পদ্মভূষণ ঊষা উত্থুপ, পটা (ক্যাকটাস, ভারত), তানিম (বাংলাদেশ)। পাশাপাশি, রঞ্জন প্রসাদ দাস একটি বিশেষ কবিতা আবৃত্তি করবেন, যা এই উদ্যোগকে বাংলার পক্ষ থেকে বিশ্বের জন্য এক সাংস্কৃতিক উপহারে পরিণত করবে।
চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সঙ্গীত পরিচালক অভিজিৎ পালের কথা ও সুরে রচিত শান্তি ও ঐক্যের বার্তা-সম্বলিত এই গানটি 'এফএমডি বাংলা' (FMD Bangla)-র মাধ্যমে বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে একটি আন্তর্জাতিক বার্তা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে ১০ জুলাই। গানের কথা ও সুরের মাধ্যমে ফিফার বিশ্বমঞ্চে বাংলার কণ্ঠস্বর ও ভারতের চেতনাকে তুলে ধরে। মানবজাতিকে মনে করিয়ে দেয় যে ফুটবল কেবলই প্রতিযোগিতার খেলা নয়, বরং তা বন্ধুত্ব, অনুপ্রেরণা ও বিশ্বশান্তির প্রতীক।
এই প্রতীকী ফুটবলে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন
- শ্রী কল্যাণ চৌবে (সভাপতি, AIFF)
- শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় (বিখ্যাত সাহিত্যিক)
- পণ্ডিত তন্ময় বোস (তবলা বাদক ও সঙ্গীতশিল্পী)
- ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় (অভিনেতা, সত্যজিৎ রায়ের প্রিয় শিল্পী)
- বিশ্বজিৎ পালিত (অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত, কাবাডি খেলোয়াড় ও কোচ)
- দেবাশিস বিশ্বাস (অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত, পর্বতারোহী)
- শ্রী বিশ্বরঞ্জন দাস (বিপ্লবী পুলিন বিহারী দাসের পৌত্র)
- গৌতম ঘোষ (চলচ্চিত্র পরিচালক)
- কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় (চলচ্চিত্র পরিচালক)
- গৌতম হালদার (নাট্যকার ও অভিনেতা)
- চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী (অভিনেতা)
- বিভাস মজুমদার (ক্রীড়াবারতী)
- সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় (সাহিত্যিক)
- সন্দীপ রায় (চলচ্চিত্র পরিচালক)
- কুণাল সাহা (ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, রাজ্য বক্সিং সংস্থা)
এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য
বাংলা সর্বদা ভারতকে পথ দেখিয়েছে এবং ভারত বারবার বিশ্বের সামনে অদম্য মনোবল ও নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বর্তমানের এই অস্থির সময়ে, যখন বিভিন্ন দেশ যুদ্ধ ও হতাশায় জর্জরিত, তখন ভারত শান্তির বার্তা বাহক হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এই প্রতীকী ফুটবল ও গানের মাধ্যমে বাংলা ফিফার বিশ্বমঞ্চে ভারতের সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দিতে চায়।
