লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার—এই দুই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কবে থেকে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা?

নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বারবারই হাতিয়ার করেছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে। ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে বর্তমানে দেড় হাজার টাকা করে প্রতি মাসে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দিচ্ছে রাজ্য সরকার।

এই আবহে রবিবার কোচবিহার-এর সভা থেকে পালটা আক্রমণ শানাল ভারতীয় জনতা পার্টি। শমীক ভট্টাচার্য ঘোষণা করেন, সরকার বদল হলে চালু হবে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। তাঁর দাবি, আগামী জুন থেকেই নতুন সরকার প্রত্যেক মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেবে।

তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করে শমীক বলেন, যেসব পরিবারের ছেলে চাকরি পায়নি বা অভিযোগ রয়েছে চাকরি বিক্রির, সেই পরিবারে আজ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ১৫০০ টাকা পৌঁছচ্ছে। তিনি দাবি করেন, প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিজেপির লক্ষ্য।

এরপরই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আর বাড়ানো সম্ভব নয় বলেই দাবি করেন। তাঁর কথায়, নতুন সরকার এলে কোনও জনহিতকর প্রকল্প বন্ধ হবে না, বরং আরও বাড়ানো হবে। “আর ১৫০০ নয়, এবার ৩০০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে”—এই প্রতিশ্রুতিকেই তিনি বলেন নরেন্দ্র মোদি-র গ্যারান্টি।

অন্যদিকে একই সভা থেকে নরেন্দ্র মোদি মহিলাদের উদ্দেশে বার্তা দেন, বিজেপি সরকার সবসময় মহিলাদের সম্মান ও উন্নয়নের জন্য কাজ করে। তিনি জানান, লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ আইন আনা হয়েছে, যার সুফল ভবিষ্যতে মিলবে।

সব মিলিয়ে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার—এই দুই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।